রাত ০২:৩১ ; বুধবার ;  ১৭ অক্টোবর, ২০১৮  

চর দখল

প্রকাশিত:

মাহমুদুর রহমান॥ 

হঠাৎ করেই বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলোর অস্ত্রের ঝনঝনানি বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে কুটনৈতিক বাদানুবাদের পর সিরিয়ায় মার্কিন এবং রুশ যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ ঘটতে গিয়েও ঘটল না। মাঝখান দিকে তুরস্কের পড়ল পা পিছলে।

এখন আবার সমুদ্রের একক অধিকার প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য চীন পাঁচটি চর গঠন করছে। গত দেড় বছর ধরে এগুলো বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সুবিধাসহ দ্রুত মিনি-বেইজ এর আকার ধারণ করছে। আর সেটি নিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মাথাব্যাথা। নতুনত্ব হলো চীন সমুদ্রগর্ভ থেকে চর গঠন করছে যা স্বল্প পরিসরের দেশ যেমন- সিঙ্গাপুর সমতল ভূমি বাড়ানোর জন্য করে থাকে।

ভবিষ্যতের বিমানবন্দর সেভাবেই তৈরি হচ্ছে। একইভাবে, মুম্বাই শহরের বিস্তৃতি একইভাবে হয়েছিল। পরাশক্তিদের চর দখল নতুন কিছু নয়। যৌথ নিরাপত্তার অজুহাতে বহু আগে থেকে গুয়াম, ডিয়েগো গারসিয়া, ওকিনাওয়া এবং গোয়ানতানামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একইধরনের চর দখল করে এসেছে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরবর্তী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিজ বাসভূমির সুদূরে এসব স্থাপনার গুরুত্ব সহজেই অনুমেয় হয়।

৭০ দশকে প্রায়ই শোনা যেত আমাদের সেন্ট-মার্টিন দ্বীপটি মার্কিন আকর্ষণের বিষয় ছিল। তারা যাতে সেই সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে ততটাই তৎপর ছিল ভারত।

সেদিন আর এদিনের এক নয়, কৌশলগত প্রয়োজন বদলে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত আকারে হলেও সামনে সংঘাত আসছে। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলছে চর দখল এবং এই ক্ষেত্রে চর তৈরি। চীনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট- দক্ষিণ চীন সমুদ্রে তাদের অধিকার হবে একক। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু-কিছু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে চীনের দ্বিমত রয়েছে।

এই চর থেকে চীনের যুদ্ধ জাহাজ মাত্র নয় মিনিটও ফিলিপিনস আকাশে পৌঁছে যেতে পারে। ফিলিপিনস সরকার সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ আদালতে মামলা করবে বলে শোনা যাচ্ছে। মামলার রায় চীনের বিপরীতে গেলে কি হবে তাও এখন ভাবার বিষয়।

চর নিয়ে ঝামেলা নতুন নয়। আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড যুদ্ধ আজও নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে। এমন কি রাশিয়ার সঙ্গেও চীনের চরবিরোধ নতুন কিছু নয়। ভারতের সঙ্গে আমাদের তালপট্টি নিয়ে হয়তো বিরোধ আরও বড় হতো, যদি না দ্বীপটি লজ্জার, অভিমানে ডুবে না যেত।

নতুন এবং বিপজ্জনক এই যুদ্ধের শেষ কোথায় বলা কঠিন। এরই মধ্যে দুটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যার একটি চাঁদে যাবার টিকিট বিক্রি। অন্যটি, চাঁদে বসতি স্থাপন। ভারতের জয় ললিতাকে চাঁদের একটি প্লট এরই মধ্যে জন্মদিনের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে পৃথিবীতে বসে কোন আইনের বলে তা করা হলো, কে সেই মালিক, যার চাঁদের দখলসত্ত্ব রয়েছে; এগুলো কিছুই পরিষ্কার নয়। এতে অবশ্য কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি প্লট পেয়েই খুশিতে গদগদ। যতদূর জানা যায়, প্লট বেচা-কেনা এখনও শুরু হয়নি। তখন জমবে মজা...

লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।  

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।