দুপুর ১২:২৪ ; মঙ্গলবার ;  ১৩ নভেম্বর, ২০১৮  

কিশোরগঞ্জ শত্রুমুক্ত বিজয় দিবসের পরদিন

প্রকাশিত:

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশ বিজয়ের আনন্দে মুখরিত হলেও কিশোরগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয় এর একদিন পর অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণে পাক হানাদাররা ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ ছেড়ে চলে গেলেও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা কিশোরগঞ্জে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি পতাকা আঁকড়ে থাকে। ১৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে কিশোরগঞ্জকে ঘেরাও করে রাজাকার-আলবদরদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ ছিল রাজাকার-আলবদরদের শক্ত ঘাটি। নেজামী ইসলামি পার্টির নেতা মাওলানা আতহার আলী, পিডিবি নেতা মাওলানা মুসলেহউদ্দিন প্রমুখ পাকিস্তানপন্থী নেতাদের ছত্রছায়ায় তারা সংঘটিত ছিল। তাদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। যার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভগুলো।

রাজাকাররা কিশোরগঞ্জ শহরের আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসা, ইসলামিয়া ছাত্রাবাসে এবং পাক সেনারা কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন ডাক বাংলোয় অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লোকজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করতো। মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত ও সাঁড়াশি আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ ছেড়ে চলে গেলেও তাদের দোসর রাজাকাররা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জকে অবরুদ্ধ করে রাখে। অবশেষে ১৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে কিশোরগঞ্জকে ঘিরে আক্রমণ শুরু করে।

রক্তপাত এড়াতে মুক্তিযোদ্ধারা ১৬ ডিসেম্বর আক্রমণ না করে রাজাকারদেরকে আত্মসমর্পণের সুযোগ করে দেন। ১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ মুক্ত করার দিন অনেক রাজাকার-আলবদর অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত করেছিল, তাদের বিচার হয়নি আজও। তাদের অনেকেই এখনও জীবিত।

জেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার মো. আসাদুল্লাহ বলেন, যুদ্ধাপরাধী এসব রাজাকার-আলবদরদের বিচার দেখে যেতে চান মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের স্বজনরা। বর্তমান সরকার দ্রুত সকল বিচার কার্যকর করবে, আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি কলংকমুক্ত হবে-এমনটাই তাদের আকাঙ্ক্ষা।

/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।