রাত ০৩:১৮ ; সোমবার ;  ২১ অক্টোবর, ২০১৯  

তিস্তা সেতুর গার্ডার ভেঙে প্রকৌশীর আহত

প্রকাশিত:

লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর একটি গার্ডার বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালে ভেঙে পড়েছে। এ ঘটনায় এক প্রকৌশলী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল আমিন খান নিম্নমানের কাজের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘ক্রেন স্লিপ করেই মূলত বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে সেতুর নির্মাণস্থল থেকে ২২ নম্বর গার্ডারটি মূল সেতুর পিলারের উপর স্থাপনের সময় সেটি উপর থেকে নদীর চরে পড়ে গিয়ে চার টুকরো হয়ে যায়। ঘটনার সময় ওই গার্ডারের ওপরে থাকা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামও নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে  উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, নির্মাণাধীন সেতুটিতে এখন পর্যন্ত তিনটি গার্ডার স্থাপন করা হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর চতুর্থ গার্ডারটি (১৭ নম্বর) স্থাপনের জন্য মূল সেতুতে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্রেনে তুলতেই সেটি নিচে পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়।

এই নিয়ে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে ১৭ ডিসেম্বর আরও একটি গার্ডার ভেঙে পড়লো।

নির্মাণাধীন সেতু এলাকার অনেকে বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, মূলত নির্মাণ ত্রুটির কারণেই বারবার ভেঙে পড়ছে গার্ডার। এমনিতে শুরু থেকেই সেতুর কাজ চলছে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সূত্র মতে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুরে গ্রামীণ যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর দরপত্রের মাধ্যমে যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডাব্লিউএমসিজি-নাভানা গ্রুপ। আর ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ সাড়ে ৯ মিটার প্রস্থের সেতুটি এলজিইডির অধীনে নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশে এলজিইডির অধীনে নির্মিত এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে দ্বিতীয় সড়ক সেতুটি।

/আরএ/এইচকে/আপ-এইচকে

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।