দুপুর ০৩:৫৭ ; মঙ্গলবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৭  

হুমকিতে বাংলাদেশের ১৫ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী!

প্রকাশিত:

বিদেশ ডেস্ক।।

ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বাড়ানোর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ওযেব ব্রাউজিং প্রোগ্রামে এসএইচএ-১ অ্যালগরিদমের ব্যবহার বন্ধ করে এইচএসএ-২ চালুর ঘোষণার পর তা নিয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে বিতর্ক। নিরাপত্তার প্রশ্নে এইচএসএ-২ চালুর সিদ্ধান্ত হলেও নতুন এ অ্যালগরিদমের কারণে উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনপ্রিয় সাইটগুলো ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে এরইমধ্যে আশঙ্কা জানিয়েছেন গবেষকরা। ক্লাউডফেয়ার পরিচালিত ওই গবেষণা অনুযায়ী, এইচএসএ-২ চালু হলে বাংলাদেশেরও ২.৫৮ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনপ্রিয় ওয়েব ব্যবহার করতে পারবেন না।

অক্টোবর ২০১৫ তে বিটিআরসির সবশেষ হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা  ৫ কোটি ৮৬ লাখ ৫৮ হাজার (৫৮.৬৫৮ মিলিয়ন)। এইচএসএ-২ চালু হলে এই ব্যবহারকারীদের মধ্যে অন্তত ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৬ জন (২.৫৮ শতাংশ) ফেসবুক, টুইটারসহ জনপ্রিয় ওয়েবগুলো ব্যবহার করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

গবেষকদের আশঙ্কা, পুরনো প্রযুক্তিতে ওই সেবা কার্যকর না হওয়ার কারণে প্রযুক্তিতে পেছানো এবং উন্নয়নশীল দেশের মানুষদেরই বেশি ভুগতে হবে। আর সে কথায় মাথায় রেখে এনক্রিপশন পলিসি নির্ধারণকারী গোষ্ঠী ব্রাউজার ফোরামকে দুটি অ্যালগরিদমেরই ব্যবহার বজায় রাখার সুপারিশ করেছেন তারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাজফিডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চালু হতে যাওয়া এইচএসএ-২ অ্যালগরিদমের আওতায় যেসব ফোন ৫ বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো থেকে জনপ্রিয় সাইটগুলোতে ঢোকা যাবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নত বিশ্বে ৫ বছরের ব্যবহৃত ফোনকে পুরনো বলে মনে করা হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সেই ফোনই অনেকের কাছে ইন্টারনেট ব্যবহারের একমাত্র সহায়। দারিদ্র্যের কবলে থাকা এসব দেশের মানুষের পক্ষে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। আর সেকারণে নতুন অ্যালগরিদমের কারণে জনপ্রিয় সাইট ব্যবহার করা থেকে বঞ্চিত হবেন তারা।

যে অ্যালগরিদম বা কোডের আওতায় ওয়েবসাইটগুলো এনক্রিপ্টেড থাকে তাকে বলা হয় ক্রিপটোগ্রাফিক হ্যাশিং অ্যালগরিদম। এর মধ্য দিয়ে ভেরিফাইড সাইটগুলো শনাক্ত করা হয়। তবে এ অ্যালগরিদমের চলতি সংস্করণটি এখন আর নিরাপদ নয় বলে গত অক্টোবরে সতর্ক করেন সাইবার গবেষকরা। আর এর পরই তৎপর হয়ে হয়ে ওঠে ব্রাউজার ফোরাম। সংগঠনটির তরফে ঘোষণা দেয়া হয়, আগামি ১ জানুয়ারির মধ্যরাত থেকে এটি আর এইচএসএ-১ সার্টিফিকেট ইস্যু করবে না। এর বদলে এইচএসএ-২ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে বলে জানানো হয়।

এসএইচএ-১ সরানোর বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার। সেই সঙ্গে নতুন অ্যালগরিদমের সঙ্গে খাপ খাবে না এমন পুরনো ব্রাউজারগুলো যেসব দেশে ব্যবহৃত হয় তার একটি তালিকাও বের করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আপডেটেড অ্যালগরিদম ব্যবহার করতে পারবে না এমন ব্রাউজারগুলোর জন্য এসএইচএ-১ ব্যবহার অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে ফেইসবুকও।

ক্লাউড ফেয়ারের দেয়া তালিকা অনুযায়ী, এইচএসএ-২ অ্যালগরিদম চালু হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মিসর, ইয়েমেন ও চীন। এসব দেশে এইচএসএ-২ অ্যালগরিদমের সাপোর্ট না থাকায় গড়ে ৫ শতাংশের বেশি মানুষ সমস্যায় পড়বেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে জরিপে।

একই কারণে জনপ্রিয় সাইটে ঢুকতে পারবে না বিশ্বের প্রায় চার কোটি মানুষ।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিউ প্রিন্স বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ওই তালিকা বিশ্বের সবচেয়ে গরিব, শোষিত দেশগুলোর তালিকার সঙ্গে মিলে যায়। অন্য কথায়, ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে এনক্রিপশন সবচেয়ে প্রয়োজন এমন অধিকাংশ ব্যবহারকারীর কাছ থেকে এনক্রিপটেড ওয়েব সেবা সরিয়ে ফেলা হবে।”

ফেসবুকের হিসেবে এ হার আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছে বাজফিড। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা প্রধান অ্যালেক্স স্ট্যামোস বলেন, “কয়েক কোটি মানুষকে এনক্রিপটেড ইন্টারনেট ব্যবহারের উপকার থেকে সরানো উচিত হবে বলে মনে করি না আমরা।”

আপাতত, পুরনো ব্রাউজারকে এসএইচএ-১ এবং নতুন ব্রাউজারকে এইচএসএ-২ অ্যালগরিদম সার্টিফিকেট দিয়ে দুটো অ্যালগরিদমই রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির তরফে। ফেসবুকের প্রস্তাব নিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে বাজফিডকে জানিয়েছেন ব্রাউজার ফোরামের প্রতিনিধি জেরেমি রাউলি। তবে এ ব্যাপারে অন্য ব্রা্উজারদেরও এ ব্যাপারে সম্মতি জানাতে হবে। সূত্র: বাজফিড, বিবিসি

 

/এফইউ/বিএ

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।