সকাল ০৯:২৩ ; শুক্রবার ;  ১৭ আগস্ট, ২০১৮  

স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসরদেরও বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসরদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে থেকে যারা পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন, তাদের স্বপ্ন কখনও সত্যি হবে না। পরাজিত দালালদের কোনও অস্তিত্ব বাংলাদেশে থাকবে না। এখনও স্বাধীনতাবিরোধীদের কিছু দোসর রয়েছেন, যারা পেয়ারে পাকিস্তানের কথা ভুলতে পারেন না। তাদের পাকিস্তানের কথা ভুলিয়ে দিতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া জাতির কাছে কী জবাব দেবেন! তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মদদ দিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন। যার শুরু এর আগে করে গেছেন জিয়াউর রহমান।

শেখ হাসিনা বলেন, আর যেন বাংলাদেশকে নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেভাবে কাজ করতে হবে আমাদের। আজ গণতন্ত্রের কথা কাদের মুখে শুনি আমরা? তারা কোন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দল গঠন করেছিলেন? তারা গণতন্ত্র বানান করতে পারবেন কিনা, আমার সন্দেহ আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করা হয়েছে। এ মামলা কিসের মামলা? এ মামলা তো অন্য কোনও কারণে নয়। যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, হুকুম দিয়েছে, অর্থ দিয়েছে, জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা। তিনি বলেন, যারা মানুষ মারবে, জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করবে অথচ তাদের বিচার হবে না, এটা হতে পারে না।

বিএনপির উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, তারা মানুষ খুন করেছে, এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে, মানি-লন্ডারিং করেছে। এটা আমাদের কথা নয়। বিদেশের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। সে টাকা আমরা দেশে ফিরিয়েও এনেছি। আজ তাদের মুখ থেকে গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়। খুনি তো খুনিই; তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই।

শেখ হাসিনা বলেন, যতই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করছি, ততই দেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে। লাখো শহীদের অর্জন ব্যর্থ হতে পারে না। এটি আমাদের জীবনপণ—লাল-সবুজের পতাকা সবার ঊর্ধ্বে থাকবে। রক্ত দিয়ে হলেও এর মর্যাদা রক্ষা করব আমরা। উন্নতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। স্বাধীনতার জন্য যে ত্যাগ, উন্নতির জন্য তেমনই ত্যাগ চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আমরাই স্বাধীন করেছি, উন্নতি করা আমাদেরই কর্তব্য। একটা দিনও আমরা নষ্ট করতে চাই না। সেভাবেই কাজ করতে হবে। দেশ জাতির পিতা দিয়ে গেছেন, আমাদের সে দেশ রক্ষা করা একান্ত দায়িত্ব।

বাঙালি অসাধ্য সাধন করতে পারে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে। বাঙালি সব রকম অসাধ্যই সাধন করতে পারে। বঙ্গবন্ধু সে সময়ই বলেছিলেন, বাংলাদেশের মতো একটি উর্বর দেশ যেখানে বীজ ফেললেই গাছ হয়, সে গাছে ফল ধরে। সে দেশে কেন মানুষ না খেয়ে থাকবে।

সরকার প্রধান বলেন, যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দিয়েছিলেন মিত্র হিসেবে, তাদের আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশ্বে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা মিত্রশক্তিকে সম্মাননা দিয়েছে।

জিয়াউর রহমান ও এরশাদের ক্ষমতা দখল এবং বিএনপি গঠন অবৈধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাইকোর্টই বলেছেন, জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল ছিল অবৈধ। এমনকি এরশাদের ক্ষমতা দখলও। উচ্চ আদালতের রায়কে যারা সম্মান করেন, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, তাদের এটি মনে রাখতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। এই বিজয় দিবস সারা বাংলাদেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদযাপন করেছে। এ চেতনা যেন চিরদিন জাগ্রত থাকে, সেটাই আমরা চাই। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে আজকে তাকে আমরা হারিয়েছি। কিন্তু তার আদর্শ বুকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে, এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। ইনশাল্লাহ আমরা বাঙালি জাতিকে সেই মর্যাদা এনে দেব।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

/পিএইচসি/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।