রাত ০৪:০৯ ; শুক্রবার ;  ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বিজয় উৎসবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ॥

সর্বত্র বিজয় উৎসব। লাল-সবুজের রঙে সেজেছে গোটা দেশ। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ—সবার গায়ে লাল-সবুজ রঙের পোশাক। স্বাধীনতাবিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে এ বিজয় দিবস সাধারণ মানুষের মনে আলাদা আমেজ এনে দিয়েছে। সবার কণ্ঠেই উচ্চারিত হচ্ছে, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ জঙ্গিবাদকে রুখে দাঁড়াওসহ বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শোভা যাত্রা করে।

ঢাক-ঢোলের তালে-তালে বিজয় র‌্যালিগুলোয় অংশ নেওয়া মানুষগুলোকে অসাম্প্রদায়িক শান্তিপূর্ণ একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। অবিরাম বাজানো হয় ৭ মার্চ দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণসহ দেশাত্মবোধক বিভিন্ন গান। রাজপথে ছুটে চলা বিভিন্ন গাড়িতে লাল-সবুজের পতাকা উড়তে দেখা যায়। সড়কের আইল্যান্ড ও চত্বরগুলোকে সাজানো হয়েছে ছোট-বড় লাল-সবুজের পতাকা দিয়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িকে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। 

ঢাকায় ভোরে জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। পরে সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের।

বেলা ১১টার দিকে বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্মৃতিসৌধে যান। এ সময় তার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ও সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বিজয় মিছিল, র‌্যালি ও শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।

দুপুরের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনসমাগম বাড়তে থাকে। হাইকোর্ট এলাকা, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি এলাকা, টিএসসি ও শাহবাগ এলাকায় বিকেলের দিকে তিল ধারণের ঠাই ছিল না। সবারই যেন গন্তব্য ছিল ঢাকার ঐতিহাসিক  সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এ উদ্যান ও আশেপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। 

বুধবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার সঙ্গে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন করে। বিজিবি’র সদর দফতরসহ বাহিনীর সব রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটগুলোয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় বিজিবি’র সদর দফতর পিলখানায় ‘সীমান্ত গৌরব’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

/জেইউ/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।