রাত ০২:২২ ; সোমবার ;  ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬  

তারুণ্যের হাতে ‘হিরোস অব ৭১’

প্রকাশিত:

তারুণ্য ডেস্ক।।

মহান বিজয় দিবস এ যুগের তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার ও গৌরবের। আর এই গৌরবের সঙ্গে তরুণদের আরও বেশি গৌরবের বিষয় যুক্ত করতে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তারা তৈরি করেছেন  ‘হিরোজ অব ৭১’ নামের মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর একটি গেম। যাতে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন  বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিরোধ ও গেরিলা হামলার পরিস্থিতি।

সময় ১৯৭১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ১৫ মিনিট। বরিশালের শনিরচর গ্রাম, যা মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের অধীন। পাঁচজনের কমান্ডো দলের প্রত্যেকের মুখে কালো কালি মাখা। দুজনের হাতে লাইট মেশিনগান, একজনের হাতে একটা হেভি মেশিনগান, আর বাকি দুজনের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ইস্যু রাইফেল। প্রত্যেকের বেল্টেই তিনটি করে গ্রেনেড। গ্রেনেড দামি জিনিস, তাই সাবধানে খরচ করতে হয়। নেহায়েত দায়ে না পড়লে ব্যবহার করার অনুমতি নেই। কবির, বদি, সজল, তাপস আর শামসু কমান্ডো বাহিনীর পাঁচজনের নাম হলেও মিশনে একে অন্যকে স্পেসিফিক কল সাইন ধরে ডাকতে হয়। কমান্ডো লিডার শামসু, তার নামেই বাহিনীর লোকমুখে নাম শামসু বাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার শামসুল আলম, সাধারণ শ্রমিক কবির মিয়া, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী তাপস মৈত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সজল ওরফে মাহবুব চৌধুরী, ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী বদিউজ্জামান ওরফে বদি। মধুমতীর পাশে শনিরচর গ্রামে একটা স্কুলে থাকা পাকিস্তানি আর্মির ক্যাম্প তাদের দখল করে নিতে হবে। যেন বরিশালে মুক্তিবাহিনীর পেনিট্রেট করার পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। এ জন্য ডাক পড়েছে ‘শামসু বাহিনীর’।

গেমটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের চরিত্রেই খেলতে পারবেন গেমাররা। একজন গেমার একসঙ্গে তিনটি চরিত্র নিয়ে খেলতে পারবেন গেমটিতে। তিনটি ভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাদের লড়তে হবে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে। শনির চরের ক্যাম্পটি বাঁচানোর জন্য কয়েক ধাপে পাকিস্তানি সেনাদের হারাতে পারলেই গেমটি জেতা যাবে।

পুরো গেমটির গল্প লিখেছেন ওমর রশিদ চৌধুরী। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট এবং অন্যান্য কাজে ছিলেন রকিবুল আলম, আরিফুর রহমান, অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী, অভিক চৌধুরী, আবদুল জাওয়াদ, পাপনজিৎ দে, রেহাব উদ্দিন, তপেশ চক্রবর্তী ও প্রিয়ম মজুমদার। পোর্টব্লিস গেমস নামের প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হয়েছে এই সংগ্রাম নির্ভর গেমটি। 

নতুন প্রজন্মের কান্ডারিদের জন্য ১৬ ডিসেম্বর থেকে  গুগল অ্যাপস্টোরে অবমুক্ত কার হয়েছে গেমটি। ৫০ মেগাবাইটের গেমটি ১ জিবি র‍্যাম আছে এমন যে কোনও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ডাউনলোড করে খেলতে পারবে যে কেউ।

গেমসটির ট্রেইলর দেখতে পারেন www.youtube.com/watch?v=AN14gZIs7D8 এই ঠিকানায়।

/এআই/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।