রাত ০৯:৫৯ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

আ. লীগের বিজয় র‌্যালিতে মানুষের ঢল

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

বিজয়ের চুয়াল্লিশ বছর পূর্তির দিন বুধবার  ঢাকায় আওয়ামী লীগের বিজয় র‌্যালিতে মানুষের ঢল নামে। মহান বিজয় দিবসে ‘ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ৩২ নম্বর ধানমণ্ডি দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ছিল এই জনস্রোত। পুরো রাজধানীই পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। এর মধ্য দিয়ে বড় শো-ডাউনও করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর র‌্যালি-পূর্ব বিশাল সমাবেশ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথেই বিএনপি-জামায়াতের সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ঘোষণা দেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

ঢাকা মহানগরীর ১৫টি নির্বাচনি এলাকা, ৪১টি থানা এবং শতাধিক ওয়ার্ড থেকে অজস্র মিছিলের স্রোত এসে মিশেছিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশে ঐতিহাসিক সোহওয়ার্দী উদ্যানের গেটে। চুয়াল্লিশ বছর আগে আজকের  এই দিনে বিকাল ৪টা ২২ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্থানে পাক হানাদার বাহিনী  আত্মসমর্পণ করেছিল, ঠিক সেই সময় বিজয়ী লাখো বাঙালিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে এ বিজয় র‌্যালির উদ্বোধন করেন। দৃষ্টিনন্দন বিশাল এই বিজয় র‌্যালিতে জাতীয় নেতাদের কণ্ঠেও ছিল একই শপথ—‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর হচ্ছে, এখন রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’ অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বিজয় শোভাযাত্রার প্রেক্ষাপটে ছিল ভিন্ন। কারণ এরই মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। জামায়াতের আরেক নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ও কার্যকর হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে খোলা ট্রাকের মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। সেখানে সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ। এতে বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, মাহবুব-উল আলম হানিফ, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আফজাল হোসেন, বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলু, একেএম এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা বিকাল ৪টা ২২ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করে র‌্যালির নেতৃত্ব দেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বিজয় র‌্যালি শুরু হয়ে শাহবাগ, কাঁটাবন, বাটার মোড়, এলিফ্যান্ট রোড, সাইন্স ল্যাবরেটরি, মিরপুর রোড হয়ে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে এসে শেষ হয়। বিজয় র‌্যালিতে এমনই মানুষের স্রোতে নেমেছিল যে, মিছিলের অগ্রভাগ যখন বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে পৌঁছয়, পশ্চাৎভাগ তখনও শাহবাগ পার হতে পারেনি। প্রায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিজয় র‌্যালিতে অংশ নেওয়া সব মানুষের কণ্ঠেই ছিল একই দাবি—‘মুজিবের বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই, যত ষড়যন্ত্রই হোক বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই।’

বিকেল ৩টার আগেই শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তায় মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাদ্য-বাজনার তালে-তালে নেচে-গেয়ে আসা তীব্র জনস্রোতে পুরো এলাকায় রীতিমতো মহাসমাবেশের রূপ নেয়। বিজয় মিছিলে ছিল মানুষের সমাগম। মাথায় লালসবুজের পতাকা। বুকে দেশপ্রেম। গালে আঁকা পতাকাখচিত মানচিত্র। সবার চোখে-মুখে ছিল বিজয়ের তৃপ্তি। সর্বোপরি মনে হয়েছে এ যেন একাত্তরের পরে আরও একটি বিজয়। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জয় বাংলা স্লোগান তুলে বাস-ট্রাকে চড়ে এসেছে বিজয়-আনন্দে উদ্বেল মানুষ। কোনও ট্রাকে আবার বানানো হয়েছে বিজয় মঞ্চ। কোনওটাতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক নৌকা, কাগজের কামান, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে রাজাকারের আত্মসমর্পণের দৃশ্যও উঠে এসেছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার, রায় বাস্তবায়ন আর রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীমুক্ত বাংলা গড়ার প্রত্যয়ের এ বিজয় মিছিল শেষ হয় ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে।

বিজয় র‌্যালিতে ড্যামি রাইফেল, কামান, ট্যাঙ্কসহ মুক্তযুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের রণসজ্জা, পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের আত্মসমর্পণ, প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ বানিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের দণ্ড কার্যকরের দৃশ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় উল্লাসসহ বিভিন্ন ড্যামি প্রদর্শনী সাধারণ মানুষকে বাড়তি আনন্দ দেয়। র‌্যালিতে থাকা বিভিন্ন ট্রাকে লাগানো মাইকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে। পৃথিবী আজ দেখুক, বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখা যায় না। মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিচার হচ্ছে, ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে। যতই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র চলুক না কেন, সব মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হবেই। কেউ ঠেকাতে পারবে না।

/পিএইচসি /এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।