সকাল ০৯:৩৫ ; বুধবার ;  ১৯ জুন, ২০১৯  

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বিশ্বের ইতিহাসে নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত: শিল্পমন্ত্রী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ॥

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভারতের সহযোগিতাকে বিশ্বের ইতিহাসে নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সাহায্যের পাশাপাশি ভারত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আড়াই লাখ ভারতীয় সেনার মধ্যে প্রায় দেড় হাজার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বুধবার কলকাতার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিজয় উৎসব’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার লক্ষ্যে ভারত সরকার বাংলাদেশি শরণার্থীদের  আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেছিল। ওই সময় ভারত ৬৯টি বেজ ক্যাম্প ও ১শ’ উপ-বেজ ক্যাম্পে ১ লাখ মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেয়। পাশাপাশি যুদ্ধকালে বিশ্বের জনমতকে বাংলাদেশের অনুকূলে আনার জন্য ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সবচেয়ে অবদান রাখেন। তিনি বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে বিভিন্ন দেশের জনগণ ও সরকারের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করেছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা সেদিন বাংলাদেশের জনগণের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তারা শরণার্থীদের নিজ পরিবারের সদস্যদের মতো আশ্রয় দিয়ে নিজেদের খাবার ভাগ করে খাইয়েছিলেন। কলকাতার থিয়েটার রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী অফিসটি বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এ উৎসবের আয়োজন করে। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার জকি আহাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ব্যবস্থ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জামদানি, টাঙ্গাইল তাঁত শাড়ি, রাজশাহীর সিল্ক, বুটিক, হস্ত ও কারুশিল্প, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, সিরামিক ও মেলামাইন সামগ্রী। থাকছে কাচ্চি বিরিয়ানী, ভুনা খিচুড়ি, পিঠাপুলি, সন্দেশসহ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি মুখরোচক খাবার।

এছাড়া, প্রতিদিন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা থাকছে। এর ফলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/এসআই/এমএনএইচ/                                              

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।