রাত ০৯:০৪ ; রবিবার ;  ২৬ মে, ২০১৯  

সাংবাদিক আটকে শীর্ষে চীন, বাংলাদেশেও বাড়ছে প্রবণতা

সিপিজে’র প্রতিবেদন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বিদেশ ডেস্ক।।

২০১৫ সালে সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে চীন, মিসর ও ইরান।  একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ মিসর, তুরস্ক, গাম্বিয়া, ভারত ও সৌদি আরবে সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তবে এ বছর বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের কারাদণ্ড দেওয়ার হার আগের বছরের চেয়ে কমেছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংগঠনের (সিপিজে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ২৮টি দেশে সাংবাদিকরা কারাভোগ করছেন। এরমধ্যে ৫৫ শতাংশকেই রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে আটক করা হয়েছে। সিপিজে’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ১৯৯ জন সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে চার ভাগের এক ভাগই অর্থাৎ ৪৯ জনই চীনা সাংবাদিক। ২০১৪ সালেও সাংবাদিকদের কারাদণ্ড দেওয়ার দিক দিয়ে দেশটি এক নম্বরে ছিল। ওই বছর বিশ্বব্যাপী ২২১ জন সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সিপিজে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কে সাংবাদিকদের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। চলতি বছর দেশটিতে ১৪ জন সাংবাদিককে দণ্ডায়িত করা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণ। দেশটিতে নির্বিচারে সাংবাদিক আটকের প্রবণতা অনেক বেশি উল্লেখ করে উদ্বেগ জানানো হয় প্রতিবেদনে।

মিসরেও আগের বছরের তুলনায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। দেশটিতে আগের বছর ১২ জন সাংবাদিককে দণ্ড দেওয়া হলেও ২০১৫ সালে কারাদণ্ড পেয়েছেন ২৩ জন। এছাড়া আজারবাইজানে ৮ জন, সৌদি আরব ও সিরিয়ায় ৭ জন করে, ভিয়েতনামে ৬ জন, বাহরাইন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ৫ জন করে সাংবাদিক কারাভোগ করছেন বলে উল্লেখ করেছে সিপেজি।

মিসর আর তুরস্কের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে সাংবাদিক ধরপাকড়ের ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে সিপিজে। তবে একটি দেশে সারাবছর কতজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে কিংবা কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। কেবল ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর রাত ১২ টা ১ মিনিট পর্যন্ত যারা কারাভোগ করছে, তাদেরই তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া তালিকায় শুধু সরকারি হেফাজতে থাকা সাংবাদিকদেরই এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, সশস্ত্র সংগঠনের কাছে জিম্মি থাকা সাংবাদিকদের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সেই হিসেবে বাংলাদেশের কারাগারে থাকা ৫ সাংবাদিকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, উইকলি ব্লিৎসের সম্পাদক সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী, একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট কনক সারওয়ার এবং আমাদের রাজশাহীর রিপোর্টার রিমন রহমান।

তবে সাংবাদিকদের কারাদণ্ড দেওয়ার দিক দিয়ে তালিকায় নিচের দিকে রয়েছে ইরান, ভিয়েতনাম ও ইথিওপিয়ার নাম। এ দেশগুলোতে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। তবে যেসব সাংবাদিক ছাড়া পেয়েছেন তারা প্রতিনিয়ত আইনি বাধা ও কঠোরতার শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে মঙ্গলবার রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)-এরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ৫৪ জন পেশাদার সাংবাদিককে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। যা আগের বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর কাছে ২৬ জন সাংবাদিক জিম্মি রয়েছেন। এরমধ্যে কেবল আইএস’র হাতেই জিম্মি রয়েছেন ১৮ জন সাংবাদিক। সূত্র: আল জাজিরা, সিপিজে প্রতিবেদন।

/এফইউ/এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।