রাত ০৩:৩১ ; রবিবার ;  ১৬ জুন, ২০১৯  

আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।।

আজ ১৫ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তি ও ভারতীয় মিত্র বাহিনী যৌথভাবে পাকিস্তান এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-সামস বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে মুক্ত করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছিল ৭ নং সেক্টরের অধীনে। এ সেক্টররের কমান্ডার ছিলেন লে.কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান চেীধুরী। ৭নং সেক্টরের অধীন তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমায় ছিল দুটি সাব-সেক্টর। একটি মোহদিপুর, অন্যটি দলদলী সাব সেক্টর। মোহদিপুর সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং দলদলী সাব সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন লে. রফিক।

’৭১ এর মার্চে যুদ্ধ শুরু হলেও প্রথমদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুদ্ধের তেমন প্রভাব পড়েনি। ১৯ এপ্রিল রাতে শহরে বোমা বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হানাদার বাহিনী। শহর দখল করে ব্যাপক ধ্বংষযজ্ঞ চালায় তারা। তারপরই পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিহত করতে সংগঠিত হতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা।

৭ নভেম্বর লে. রফিকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা মকরমপুর ও আলী নগর হানাদারদের ঘাঁটিতে অতর্কিত আক্রমণ চালালে ৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চর বাগডাঙ্গা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের জন্য অগ্রসর হয় এবং পাকিস্তানি সেনাদের বাঙ্কার দখল করে নেয়। ১৩ ডিসেম্বর যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং ওই দিন  মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ চালায়। সেই রাতে হরিপুর ব্রিজের কাছে যুদ্ধে শহীদ হন ইপিআর নায়েক নবির উদ্দীনসহ ৬জন মুক্তিযোদ্ধা। এতে ৯ জন গ্রামবাসীও নিহত হয়।

১৪ ডিসেম্বর জেলা শহরের মহানন্দা নদীর পাদদেশ রেহাইচর এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন  বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর। পরে ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দীন, লে. রফিকুল ইসলাম, লে. আব্দুল কাইউম খান নিজ নিজ বাহিনী নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর বিকালে ফের লড়াই শুরু হয়। গভীর রাতে শেষ হয় সেই যুদ্ধ। পরের দিন শত্রুমুক্ত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর।

দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

 

/এসটি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।