রাত ০২:০৭ ; সোমবার ;  ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না গফরগাঁও ভূমি অফিসের

প্রকাশিত:

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জমির নামজারি করতে আসা সাধারণ কৃষকরা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। প্রতিটি নামজারির ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ শামছুল আরেফিনের জন্য নেওয়া হয় ৩ হাজার টাকা করে ঘুষ।

এসব ঘুষ বাণিজ্য এখানে ওপেন সিক্রেট বললেই চলে। অভিযোগে জানা যায়, গফরগাঁও উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি করতে আসলে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগু, সার্ভেয়ার, নাজির ও পিয়নকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষ দিতে হয়।

উপজেলার দীঘা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ, খায়রুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ তিন মাস ধরে ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরছি। ঘুষের টাকা দিতে না পারায় তাদের জমি খারিজ হচ্ছে না। শুধু এ দুই কৃষক নয়, প্রতিদিন অসংখ্য কৃষক ঘুষ দিয়েও জমির নামজারি নিতে পারছেন না। অভিযোগ করলে উল্টো কৃষকদের নাজেহাল হতে হয় ভূমি অফিসের কর্তা ব্যক্তিদের হাতে।

এদিকে পৌর শহরে ভূমি অফিসের রয়েছে একটি দালাল সিন্ডিকেট। এই দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যম ছাড়া পৌর এলাকার জমির নামজারি হয় না। নিগুয়ারি ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী জানান, ভূমি অফিসের কানুনগুকে দশ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও দীর্ঘ ২ মাস ধরে তিনি জমির নামজারির আশায় ঘুরছেন। শুধু জমির নামজারি করতে নয়, নামজারি বাতিল করতেও এ অফিসে চলে ঘুষ বাণিজ্য। ভূমি অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, পত্রিকায় লেখলে বা অভিযোগ করে কোনও লাভ নেই। এ অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সব জায়গা ম্যানেজ করে রাখেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ১/১১ এর সময় দুদকের হাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার হয় এই অফিসের কানুনগু গোলাম মোস্তফা। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি এখানে কর্মরত রয়েছেন। এদিকে কথিত রয়েছে, উপজেলা ভূমি অফিস চলে সার্ভেয়ার আ. কাইয়ুমের কথায়। এ ব্যাপারে সার্ভেয়ার কাইয়ুম জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য। কথা বললে কানুনগু গোলাম মোস্তফা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি)  শেখ শামছুল আরেফিন জানান, তিনি এখানে কয়েকমাস ধরে যোগদান করেছেন। ভূমি অফিসে কোনো ঘুষ বাণিজ্য নেই বলে তিনি অস্বীকার করেন।

/আরএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।