বিকাল ০৪:৪৮ ; বৃহস্পতিবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৯  

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প দেখে উন্নয়নশীল অনেক দেশের ঈর্ষা হয়: শ্যানন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক আন্ডার সেক্রেটারি ডেসিগনেট টম শ্যানন বলেছেন আমেরিকা বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয় এবং বাংলাদেশ বেশ গুরুত্ব বহন করে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক এক সেমিনারে রবিবার তিনি একথা বলেন।

শ্যানন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতি যখন এর বহুত্ববাদী এবং উদ্যোগী নাগরিকদের কাছ থেকে সুবিধা লাভ করে তখন কী কী করা সম্ভব, সেই ক্ষেত্রে আপনাদের দেশটি একটি আদর্শ উদাহরণ।’

শ্যানন বলেন এটি এমন একটি দেশ যার কথা পুরো পৃথিবী মনোযোগ দিয়ে শোনে, তা হোক শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন অথবা সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়। 

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন এটি উন্নয়নশীল অনেক দেশের কাছে একটি ঈর্ষার বিষয়। 

আর সে কারণে একটি শক্তিশালী এবং সম্মানজনক ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন শ্রমিকদের অধিকার এবং নিরাপত্তা সুরক্ষিত হয় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা দরকার। 

তিনি আরও বলেন বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অনেক দিন ধরে নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে এবং দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।

‘এটি হতে পারে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক শক্তিকেন্দ্র যা দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মধ্যে মানুষ এবং পণ্য পরিবহনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখতে পারে।’

‘আমাদের ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক করিডোর উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।’

শ্যানন বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনের সময় আবার এগিয়ে আসছে এবং তিনি আশা করেন গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্নিশ্চিত করতে প্রত্যেকেই এই সুযোগটি সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাইবে। 

টম শ্যানন রবিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নিশা দেশাই বিসওয়াল ও ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মনপ্রীত আনন্দ ঢাকায় এসেছেন।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক তাদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

টম শ্যাননের এটাই প্রথম ঢাকা সফর। এটাকে ‘ফ্যামিলিয়ারাইজেশন’ সফর হিসাবে দেখা হলেও দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকায় এটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শেরম্যানের স্থলাভিষিক্ত হবার পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হবেন টম শ্যানন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচম মাহমুদ আলীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন শ্যানন। কাল সকালে কলম্বো যাওয়ার কথা রয়েছে তার। অন্যদিকে নিশা দেশাই আজ ভারতে ফিরে যাবেন।

/এসএসজেড/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।