রাত ০৯:৪১ ; মঙ্গলবার ;  ২৫ জুন, ২০১৯  

দিনাজপুরে ইসকন মন্দিরে হামলা : গাইবান্ধা থেকে পাঁচজন আটক

প্রকাশিত:

গাইবান্ধা প্রতিনিধি।।

দিনাজপুরে ইসকন মন্দিরে বোমা হামলার ঘটনায় আরও পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন আটক শরিফুল ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, শরিফুলের বাবা সাখাওয়াত হোসেন ওরফে খোকা মিয়া (৬০), একই গ্রামের স্বাস্থ্য কর্মী আবু জাফর মণ্ডল ইকবাল (৪৯),তার তিন ছেলে ফরহাদ মিয়া (২৫), ফুয়াদ মিয়া (২০) ও  সিহাব মিয়া (১৮)।

পলাশবাড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় জিঞ্জাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের থানায় জিঞ্জাসাবাদ চলছে।

তিনি আরও বলেন, আটককৃত মনোহরপুর কমিউনিটি হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারি আবু জাফর মণ্ডলের বাড়ি থেকে কিছু জিহাদি বই ও সরকারি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। শরিফুল ইসলামের নামে থানায় কোনও মামলা নেই।

গাইবান্ধা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মনোহরপুর গ্রাম। শনিবার বিকালে মনোহরপুর গ্রামে শরিফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার মা সালেহা বেগম ছেলে ও স্বামী আটকের ঘটনায় শোকে শয্যাশায়ী। সালেহা বেগম জানান, তার স্বামী সাখোয়াত হোসেন ও মেঝো ছেলে আনারুল ইসলাম ওরফে রানা মিয়া  ১৯৯০ সাল থেকে কানাডা প্রবাসী। গত দু’বছর থেকে সাখোয়াত হোসেন গ্রামের বাড়িতেই আছেন। বড় ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী সাহারুল বাড়িতেই থাকেন। ছোট ছেলে শরিফুল ইসলাম ২০০২ সালে মনোহরপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। পরে ২০১১ সালে বগুড়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ ইন্সটিটিউট থেকে কম্পিউটার টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা পাস করে। তারপর গত ৬/৭ মাস অগে ঢাকায় আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি নেয়। কিন্তু সে কি কারণে বা কবে ঢাকা থেকে দিনাজপুর গিয়েছে সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

গ্রামবাসী জানায়, শরিফুলকে এলাকায় ভদ্র ছেলে হিসেবেই তারা চেনেন। সে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে বগুড়া বা ঢাকা গিয়ে সে কি করেছে তা তারা জানেন না।

এদিকে প্রতিবেশি আবু জাফর ইকবাল ও তার তিন ছেলে ফরহাদ,ফুয়াদ ও শিহাবকে পুলিশ একই রাতে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।

তাদের স্বজনরা জানান, আবু জাফর ইকবালের ছেলেদের বন্ধু ছিল শরিফুল ইসলাম। ফরহাদ ঢাকায় পোশাক শিল্পে চাকরি করেন,ফুয়াদ ও শিহাব বাড়িতেই থাকেন। তাদেরও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে এলাকাবাসী কোনও কিছু জানেন না। তবে তারা নিয়মিত নামাজ পড়ে বলে তারা জানান।

/জেবি/

আপ- এআর

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।