ভোর ০৭:২৯ ; বুধবার ;  ১৫ আগস্ট, ২০১৮  

না. গঞ্জে স্কুলছাত্রীর আত্মহননের ঘটনায় শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার

প্রকাশিত:

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

নারায়ণগঞ্জে গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাবিবা শ্রাবণীর (১৫) আত্মহননের ঘটনায় ওই স্কুলের এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার ও এক শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রাবণীর আত্মহননের পর তার রেখে যাওয়া একটি চিরকুটে এ দুইজন শিক্ষকের নাম থাকায় শনিবার স্কুলের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের (ম্যানেজিং কমিটি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উম্মে হাবিবা শ্রাবণী গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। সে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার মো. হাবিবউল্লাহর মেয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে সে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই সময়ে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে একটি চিরকুট রেখে যায়। তাতে স্কুলের দুইজন শিক্ষক ও শিক্ষিকার নাম উল্লেখ করেন শ্রাবণী।

শুক্রবার দুপুরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের লোকজন লাশ দাফনের জন্য নোয়াখালীর মাইজদি চলে যায়। শনিবার বিকাল পর্যন্ত তারা নারায়ণগঞ্জের বাসায় ফেরেনি। তবে শ্রাবণীর আত্মীয় নুরুল ইসলাম জানান, রবিবার কিংবা সোমবার পরিবারের লোকজন নারায়ণগঞ্জ এসে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

গণবিদ্যা স্কুলের অভিভাবক সদস্য আনোয়ার হোসেন ভূইয়া জানান, শনিবার দুপুরে স্কুলের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ (ম্যানেজিং কমিটি) এর সভায় সকলের সর্ব সম্মতিক্রমে স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্নাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরিদর্শক ও স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন বেগমকে ৩ দিনের মধ্যে ঘটনার কারণ লিখিত আকারের জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গণবিদ্যা নিকেতনের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মুকুল বলেন, যেহেতু ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা করে নাই, এমনকি আদালত কোন সিদ্ধান্ত দেয় নাই। সেহেতু ওই দুই শিক্ষককে দোষী বলতে পারি না। তবে ঘটনার দিন যা ঘটেছে তার ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন গ্রামের বাড়িতে থাকায় কয়েকদিন পর অনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে শোক সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

শ্রাবণীর বাবা হাবিবউল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার শহরের গণবিদ্যা নিকেতনে পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে শ্রাবণীর বিরুদ্ধে অসদুপায় (নকল) অবলম্বনের অভিযোগ তুলে সহকারী শিক্ষিকা ও পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শক নাসরিন বেগম। পরে শ্রাবণীকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম এ কাইয়ুমের কাছে নিয়ে যায়। এ সময় ওই কক্ষে থাকা স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্না শ্রাবণীকে উপর্যুপরি চড় থাপ্পড় মারেন এবং গালমন্দ করে পরিবারের কাছে অভিযোগ করবে বলেন। পরে ওইদিনের পরীক্ষা থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এ অপমান সইতে না পেরে রাতেই নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে কাপড়ে বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে শ্রাবণী। আত্মহত্যার কারণ হিসাবে স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন বেগম ও খণ্ডকালীন শিক্ষক কামরুল হাসান মুন্নার নাম উল্লেখ করে চিরকুট লিখে যায়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি এম এ মালেক জানান, শ্রাবণীর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যদি পরিবারের লোকজন কোন অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/আরএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।