রাত ১০:২৬ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

মীরাক্কেলের কারণে তারা গৃহহারা!

প্রকাশিত:

মাহমুদ মানজুর।।

জনপ্রিয় উপস্থাপক-কণ্ঠশিল্পী মীর আফসার আলী, টালিউডের তিন নামজাদা অভিনয়শিল্পী পরান বন্দোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত এবং শ্রীলেখা মিত্র, মীরাক্কেলে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের দুই সফল মুখ ইশতিয়াক নাসের-শাওন মজুমদারসহ এমন অনেকেই এখন গৃহহারা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিবার থেকে বিতাড়িত! জি-বাংলার ফান-শো ‘মীরাক্কেল’-এ অংশ নেওয়ার দায়ে তাদের এই অবস্থা। বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটাই জানালেন ‘মীরাক্কেল-৯’ এর অন্যতম মেন্টর এবং এর প্রাক্তন প্রতিযোগী ইশতিয়াক নাসির।

তিনি আরও জানান, যে যার বাসা থেকে বিতাড়িত হয়ে এখন তারা সবাই মিলে গড়ে তুলেছেন একটি ‘মীরাক্কেল পাড়া’। যে পাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে এখন দারুণ আরামে বাস করছেন পরান, রজতাভ এবং শ্রীলেখা। তাহলে বাকিদের কী হাল? ‘মীরাক্কেল’ অনুষ্ঠানের প্রাণভ্রোমরা মীর আফসার আলীর-ই-বা কী অবস্থা? ‘দুশ্চিন্তার কারণ নেই’ বলে ইশতিয়াক বললেন, ‘মীর দা আমাদের পাড়ার বড় ভাই। তিনি বিন্দাস আছেন। আমাদের দেখভাল করেন। দাদা এ পাড়ায় হালকা মাস্তানি-টাস্তানিও করেন। আমরাও নিজেদের ছোটখাট ব্যবসার পাশাপাশি তার পেছন পেছন ভালোই আছি।’

নিজেদের ‘কার-ফু গ্যারেজে’র সামনে সংগীত তিওয়ারি ও ইশতিয়াক নাসিরের সেলফি

জানা গেছে, এ পাড়ায় নতুন হিসেবে মাস দুয়েক হলো যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের দশ জন প্রতিযোগীও। সঙ্গে আছে ভারতের আরও ২০ জন নতুন মুখ। যারা সবাই ‘মীরাক্কেল-৯’ আসরের টানে ঘর ছেড়েছেন, জমায়েত হয়েছেন মীরাক্কেল পাড়ায়। এ পাড়ায় নতুন-পুরাতন সবাই মিলে গড়ে তুলেছেন নিজেদের কর্মসংস্থানও। মীর আফসার আলীর সমর্থনে এখানে গড়ে উঠেছে মটর গ্যারেজ ‘কার-ফু গ্যারেজ’, খাবারের দোকান ‘রোল ক্যামেরা অ্যাকশন’, চিকিৎসা সেবার জন্য ‘বলো হরি ক্লিনিক’ প্রভৃতি।

ইশতিয়াক নাসের বলেন, ‘মীরাক্কেল করতে গিয়ে সব হারাতে হয়েছে, এখন পেটের দায়ে এ পাড়ায় ছোটখাট একটা গ্যারেজ চালাই। সারাদিন দোকানে কাজ করি আমরা, আর সন্ধ্যায় বসে পড়ি ‘মীরাক্কেল-৯’ আসরে পরিবেশনের জন্য রকমারি জোকস নিয়ে। এ সময় আমাদের তিন বিচারক রাতের খাবার সেরে ব্যালকনিতে এসে বসেন, শোনেন আমাদের জোকস।’

একফ্রেমে মীরাক্কেল পাড়ার বাসিন্দারা

মীরাক্কেল পাড়ার এমন অভিনব পরিকল্পনা নিয়ে ১০ ডিসেম্বর থেকে (বৃহস্পতি থেকে শনিবার) জি-বাংলায় রাত সাড়ে দশটায় সম্প্রচার শুরু হলো ‘মীরাক্কেল-৯’ আসর। এই সিজনের অন্যতম মেন্টর ইশতিয়াক নাসির বলেন, ‘গত আটটি আসরের চেয়ে এবারের আয়োজন সবচেয়ে বড়। বিশেষ করে এবারের গৃহত্যাগী এ পরিকল্পনা আর মীরাক্কেল পাড়ার যে সেট তৈরি হয়েছে- তা এর আগে আর কোনও রিয়েলিটি শো’র জন্য হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এরমধ্যে দুই পর্ব সম্প্রচার হয়েছে। দারুণ সাড়া পাচ্ছি আমরা। ব্যস্ত আছি নতুন পর্ব আর জোকস পরিকল্পনা নিয়ে।’

এদিকে বাংলাদেশ থেকে এবার অডিশনের মাধ্যমে অংশ নিয়েছে ১০ জন প্রতিযোগী। ইশতিয়াক নাসেরের ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশ থেকে আসা দশ প্রতিযোগীকে শেষ দুই মাস আমরা গ্রুমিং করিয়েছি। এরমধ্যে অনেকেই দারুণ পারফর্ম করছে। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম পাভেল, কলি, জহিরুল, রেজা, আরমান প্রমূখ। আসলে ওদের আরও অনেক পরিশ্রম করতে হবে যদি শেষ পর্যন্ত যেতে হয়। আমাদের (বালাদেশী) আসলে মেধা আছে কিন্তু অলসতাও অনেক। মেন্টর হিসেবে আমার তাই মনে হয়েছে।’

‘বলো হরি ক্লিনিকে’র সামনে মেন্টর/প্রশিক্ষক দলের সদস্যরা

/এমএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।