সকাল ১১:৩০ ; বুধবার ;  ১৩ নভেম্বর, ২০১৯  

বিশাল সেতু নির্মাণে আমরাও যোগ্য- এটা প্রমাণিত: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর প্রতিনিধি॥

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শত বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে বাংলাদেশিরা আজ প্রমাণ করেছে যে- বাংলাদেশিরাও পারে। কারও কাছে ভিক্ষা করে নয়, হাত পেতে নয়, আমরাও পদ্মা সেতুর মতো একটা বিশাল সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করতে পারি। সেই যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি।’

শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর মূল কাজের পাইলিংয়ের উদ্বোধন করার সময় তিনি এ কথা বলেন। এরপর সুধী সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত হবে। তাছাড়া বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিরাট সাফল্য অর্জিত হবে। দারিদ্র্যের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার যে কাজ আমরা শুরু করেছি তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখবে। তাই সময় মতো সেতুর কাজ শেষ করতে পারার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান তিনি।

এর আগে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। সকাল ১১টা ২০ মিনিটে জাজিরার পূর্ব নাওডোবায় ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় পদ্মা সেতু প্রকল্পের সফলতা কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

জাজিরায় সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের প্রকল্প হাতে নিলে বিশ্বব্যাংক এগিয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎ কোনও কারণ ছাড়াই তারা দুর্নীতির অভিযোগ আনে। যদিও পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির সেই অভিযোগ তারা আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি।

সুধী সমাবেশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) শওকত আলী, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে মাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি মাওয়া প্রান্তে এসে পৌঁছান। ১২টা ৫৫ মিনিটে তিনি মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন করেন।

বিকাল ৩টায় লৌহজংয়ের মেদেনীমণ্ডলে খান বাড়ির কাছে মহাসড়কের পশ্চিম প্রান্তে মাওয়া নতুন গোল চত্বর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীসহ জনসাধারণ যোগ দিয়েছে।

ইতিমধ্যেই সেতুটির প্রায় ২৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে মূল সেতু নির্মাণের ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, নদীশাসন কাজের ১৩ শতাংশ এবং সংযোগ সড়কের উভয়প্রান্তে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। এর আগে পরীক্ষামূলক পাইলিং চললেও এবার শুরু হচ্ছে মূল পাইলিং।

পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের অর্থনীতিতে বিপ্লবের চেয়েও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যে স্বপ্নপূরণ হবে, তার মূল্য অর্থনৈতিক হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। গোটা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

/এআই/এফএস/ এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।