সকাল ১০:৪৯ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

রাজস্ব আহরণে অব্যাহত সহযোগিতা চান এনবিআর চেয়ারম্যান

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

চলতি অর্থবছরের বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সকলের অব্যাহত সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়াম্যান নজিবুর রহমান। 

বৃহস্পতিবার এনবিআর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সহযোগিতা চান তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগের মতো দেশের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদ মাধ্যমেরও অব্যাহত সহযোগিতা দরকার। এনবিআর ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণে কাজ করছে। ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। গণমাধ্যমের সঙ্গেও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এনবিআরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য কর্মকর্তাকে গুরত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে হয়রানি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিদের কর আদায়ে সম্পৃক্ত করা এবং রাজস্ব আদায়ে কঠোর তদারকির মাধ্যমে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কর প্রদানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে রাজস্ব বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিসিএস (প্রশাসন) একাডেমি, বিসিএস (কর) একাডেমি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি, কাস্টসম এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিসহ সকল একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য রাজস্ব বিষয়ক পাঠ্যক্রম প্রেরণ করা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরে এনবিআর ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ সময়ে ১২ হাজার ৬৮ কোটি ২ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছরের নভেম্বর মাসের তুলনায় ২৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।

তিনি জানান, সার্বিকভাবে এই পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৪ শতাংশ। প্রথম চার মাসে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ সময় তিনি ছন্দ কেটে বলেন, ‘কর প্রদানে ফুলেল বরণ, কর ফাঁকিতে বাঘের ছোবল।’

স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে কর প্রদানে উদ্ধুদ্ধ করবে এনবিআর। অর্থনৈতিক ও রাজস্ব সম্ভাবনাময় স্থানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করা হবে। নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিরা জনগণকে আয়কর ও রাজস্ব প্রদান বিষয়ে সচেতন ও পরামর্শ দেবেন।

আগামী বছর কর মেলা হবে নতুন রাজস্ব ভবনে। চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ কর ভবন হবে। জেলায় জেলায় রাজস্ব ভবন হবে। যাতে সুন্দর পরিবেশে বসে কর্মকর্তারা কর সেবা দিতে পারে বলে জানান চেয়ারম্যান।

ব্যাংক ও এনবিআরের সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক গর্ভনরের কাছে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক হিসাবধারীদের ই-টিআইএন, বিআইএন নাম্বার দেখে রাজস্ব আদায়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া, ঋণ গ্রহণ থেকে শুরু করে আমদানি-রফতানি সব ক্ষেত্রে যাতে রাজস্ব আদায় করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ প্রদানে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডার মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘করদাতা সন্তুষ্টিকরণ জরিপ’ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।