সন্ধ্যা ০৭:১৫ ; রবিবার ;  ১৯ মে, ২০১৯  

কেন পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চায় ভারত

প্রকাশিত:

বিদেশ ডেস্ক।।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানে। ইসলামাবাদে দু’দিনের ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তান সফরে যাবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘‘দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে এবং সেই প্রয়াসকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই আমি ইসলামাবাদে এসেছি।’’ তবে চিরবৈরী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের তাগিদ কেন? কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের বিশ্লেষণ বলছে, এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক চাপ আর বাণিজ্যিক স্বার্থ।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়েই ফের আলোচনার টেবিলে বসছে ভারত-পাকিস্তান, বুধবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আলোচনার মধ্যে দিয়ে যার সূচনা হয়েছে।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার তাগিদ রয়েছে মোদীর তরফে। সেই লক্ষ্যে তিনি বহু দিনই ধীরে ধীরে এগোচ্ছিলেন। তাই দিল্লিতে  পালাবদলের পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের অনুষ্ঠানে মোদী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শরিফকে। চলতি বছরে রাশিয়ার উফায় শরিফ ও মোদীর বৈঠকে মোদীকে সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানে আসার আমন্ত্রণ জানান শরিফ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণও করেন। প্যারিসে জলবাযু সম্মেলনের ফাঁকে বেশ কয়েক মিনিট একান্তে কথা বলেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। ফের খুলতে শুরু করে ভারত-পাক আলোচনার দরজা। যার ফলশ্রুতি ব্যাংককে ভারত-পাক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক। আনন্দবাজার বলেছে, সেই বৈঠকই সুষমার পাকিস্তান সফরের পথ প্রশস্ত করে।

সম্মেলনের ফাঁকে শরিফের সঙ্গে কথা বলেন সুষমা। নিজস্ব সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার জানায়, দু’জনের মধ্যে সন্ত্রাস, কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে। তার পরে দু’দেশের তরফেই যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, সন্ত্রাস, নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাংককে দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক সফল। তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পাকিস্তানের তরফেও ভারতকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে মুম্বাই হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সম্মেলনে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরদার করার উপরেও জোর দিয়েছেন সুষমা। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা এখন অনেক পরিণত হয়েছি। দু’দেশের আত্মবিশ্বাসও যথেষ্ট বেড়েছে। দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককেও আরও জোরদার করে তুলতে হবে। তার জন্য যা যা করার তা করতে হবে।’’

রাজনীতি বিশ্লেষকদের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, বাণিজ্যিক সম্পর্কে জোর দিতে চাওয়ার পিছনেও রয়েছে মোদীর কূটনীতি। তাদের দাবি, মোদী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আনার উপর জোর দিচ্ছেন। সেই কারণেই তাঁর একটার পর একটা বিদেশ সফর। কিন্তু সেই বিদেশি বিনিয়োগের পথে একটি কাঁটা হল পাকিস্তান-ভারত সীমান্তের সন্ত্রাস। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শীতল সম্পর্ক। তাই ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলির চাপ রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর উপর। আনন্দবাজারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সেই কারণেই মোদী চাইছেন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে।

/বিএ/ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।