রাত ১০:৪০ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

নাটেশ্বরে প্রাচীন বৌদ্ধ নগরীর খনন আবার শুরু

প্রকাশিত:

তানজিল হাসান, মুন্সীগঞ্জ।।

শুকনো মৌসুম আসায় মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ির নাটেশ্বরে আবারও হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ নগরীর খনন কাজ আবার শুরু হচ্ছে। নতুন করে এই খনন কাজের উদ্বোধন করবেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আগামী ১৭ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই স্তরের খননে যেসব নতুন জিনিস আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ঘোষণা দেওয়া হবে।

নাটেশ্বরের এই প্রত্নতাত্তিক নগরীর খনন কাজের প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে। তখন প্রায় দুই মাস খনন করে অষ্টকোণাকৃতি স্তুপের বাহু, কোণ,চেম্বার ও মণ্ডপসহ নানা কিছু বেরিয়ে আসে।

রাজনীতিবিদ, গবেষক ও কবি ড. নূহ-উল-আলম লেনিন প্রতিষ্ঠিত ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন’ ২০১০ সালে এ অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন, গবেষণা ও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সীমিত আর্থিক সহায়তায় ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিক খনন। প্রকল্পটির গবেষণা পরিচালক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে জরিপ ও খনন কাজে ঐতিহ্য অন্বেষণের গবেষক,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেন।

ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০১০ সালে রামপাল ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে ৯টি পরিক্ষামূলক খনন পরিচালিত হয়। যার ধারাবাহিকতায় রামপালের রঘুরামপুরে ৯৯০-১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের একটি বৌদ্ধবিহার আবিষ্কৃত হয়। রঘুরামপুরে বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কারের সময় না থাকতে পারলেও ২০১৪ সালে জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বর গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সঙ্গে চীনের একটি প্রত্নগবেষক দল যুক্ত হয়।  

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানান,‘ওয়াচটাওয়ার’ ব্যবহার করে সুবিধা না হওয়ায়, তারা একটি যন্ত্র ব্যবহার করছেন। যা দিয়ে উপর থেকে এই বিহারের ছবি সঠিকভাবে তোলা যাবে। তারা এটির নাম দিয়েছেন ‘কাইট’।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা আরও জানান, খনন কাজে ১৬০ জন শ্রমিক অংশ নিয়েছেন। শুষ্ক মৌসুমেই শুধু এ কাজ চলবে। এরপর আমরা রঘুরামপুর বৌদ্ধবিহার খনন কাজ আবারও চালু করব। নাটেশ্বর বৌদ্ধ নগরীর ‘কার্বন পরীক্ষা’ করা হয়েছিল গতবার। ফলাফলে আমরা ‘সি-১৪’ পাই যার মানে এই প্রাচীন নগরী প্রায় ১০০০ থেকে ১২৫০ বছর আগের।

চীনের হুনান প্রদেশের ইনস্টিটিউট অব কালচারাল রেলিকস অ্যান্ড আর্কেওলজির সহযোগী অধ্যাপক লি ইয়াই উয়ান বলেন, এই সেশনে আমরা যা কিছু আবিষ্কার করতে পেরেছি সে সম্পর্কে আগামী ১৭ ডিসেম্বরে জানানো হবে। কারণ আমরা এখনও কাজ করে যাচ্ছি।

/জেবি/এসএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।