রাত ০৪:৫৯ ; বুধবার ;  ১৮ জুলাই, ২০১৮  

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি বিধি ভঙ্গ করেছেন: বিএনপি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

দলীয়ভাবে মনোনীত ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিলের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পরও আরেক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনি বিধি ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। 

বুধবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি অভিযোগ করেন, শরীয়তপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলামের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমার পরও পরবর্তীতে সেখানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রে ফারুক আহেম্মেদ তালুকদারকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিধি পরিপন্থী।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে।  নির্বাচন যে প্রহসনের দিকে যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসনের সেই আশঙ্কাই প্রমানিত হতে যাচ্ছে।  জনগণ নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনই সুষ্ঠ হয়নি। এই সরকারের অধীনে যেসব নির্বাচন হয়েছে তার সব গুলোর চিত্রই একই রকম। 

মির্জা ফখরুল জানান, ৩ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোয়নপত্র জমা নেওয়া শেষ দিন ছিল। ৬ তারিখ ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করে ৭ ডিসেম্বর শরিয়তপুরে প্রার্থী পরিবর্তন করার আবেদন করেছেন তার স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রে। তিনি নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি দিয়ে প্রার্থী পরিবর্তন করার কথা বলেছেন। এটা সম্পূর্ণ  নির্বাচনি বিধির পরিপন্থী।  

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি বিধিতে আছে কোনও দলের চেয়ারপারসন, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব মনোনিত প্রার্থীর মনোনয়নে স্বাক্ষর করবেন। একই এলাকায় এক জনের বেশি প্রার্থী মনোনায়ন করা যাবে না। একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিলে সবগুলো বাতিল হবে। বরগুনার বেতাগীতে সরকার দলীয় একাধিক প্রার্থী থাকলেও তাদেরকে বাতিল করা হয়নি। কারণ নির্বাচন কমিশন সরকারের হাতে আছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেখানে প্রার্থীর বৈধতা সম্পর্কে স্পষ্ট করে বিধি ১২-তে উল্লেখ করা আছে, কোনও রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাদের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ণপত্র থাকতে হবে। তবে শর্ত রয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দল কোনও পৌরসভায় মেয়র পদে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। দিলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় ওই দলের মনোনয়পত্র বাতিল বলে গন্য হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাতিল হওয়া একটি মনোনয়নপত্রের পর আরেকটিতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সইটা করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি হচ্ছেন সরকারের প্রধান নির্বাহী। তাহলে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।’

মির্জা ফখরুল জানান, ‘ফেনী জেলার বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের এর বাসায় সরকার সমর্থিতরা হামলা চালিয়েছে। কারণ তিনি প্রার্থীতা ফেরত পেতে আপিল করেছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা দলের অনেক প্রার্থী বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারছেন না । এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও নিরপক্ষে হবে, সেটি সহজেই অনুমান করা যায়।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটর সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান  আব্দুল্লাহ আল নোমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, সহ দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, আব্দুল লতিফ জনি, সহ প্রচার সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ।

/এসটিএস/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।