সন্ধ্যা ০৭:০৭ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

বগুড়ায় পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌসুমি চাঁদাবাজরা বেপরোয়া

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বগুড়া ব্যুরো।।

বগুড়ায় পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌসুমি চাঁদাবাজরা বেপারোয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,ফুটবল, ব্যাডমিন্টন,ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে প্রার্থীদের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাহিদামত চাঁদা না দিলে প্রার্থীদের এলাকায় প্রচারণা চালাতে বাধা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এদের অত্যাচারে দরিদ্র প্রার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা অন্তত ভোটের দিন পর্যন্ত পৌর এলাকায় এসব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান,ওসিদের সঙ্গে আলোচনা করে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়,বগুড়ার ১২ উপজেলায় মোট ১২টি পৌরসভা। মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়ায় দুপচাঁচিয়া ও তালোড়া পৌরসভায় এবং সীমানা সংক্রান্ত বিরোধে হাইকোর্টে রিট হওয়ায় সোনাতলা পৌরসভায় ভোট হচ্ছে না। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নয়টি পৌরসভায় নয়জন মেয়র,৯৩টি কাউন্সিলর ও ৩১টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ ভোটকে সামনে রেখে মৌসুমি চাঁদাবাজরা মাঠে নেমে পড়েছে। ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলা, ইসলামী জলসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সিমেন্ট, বালি, ফ্যান, কার্পেটসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের নামে প্রার্থীদের কাছে চাঁদা আদায় করছে।

অনুষ্ঠানগুলোতে প্রার্থীদের অতিথি করা হচ্ছে। তাদের কাছে বাধ্যতামূলক চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। কোনও প্রার্থী অস্বীকার করলে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে সহযোগিতা এবং এলাকায় ঢুকতে বাঁধা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এতে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ এসব কথিত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হলেও ধারদেনা করে চাঁদা দিচ্ছেন। নীরব চাঁদাবাজীর শিকার প্রার্থীরা ভোট হারানোর ভয়ে প্রশাসনকে জানাতেও পারছেন না।

প্রার্থীদের স্বজনরা উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে অবহিত করলেও তারা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বগুড়া পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করেন,তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য গত ঈদ ও পূজার সময় শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারিং করেন। এরপর থেকে চাঁদাবাজরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। কেউ ওইসব অনুষ্ঠানে যেতে না চাইলে তাকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমর্থন দেখানোর ভয় দেখাচ্ছে। তাই তারা বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হচ্ছেন ও চাহিদামত চাঁদাও দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী প্রার্থীরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নিরব চাঁদাবাজি বন্ধে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের অনুমতি না দিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

/এমআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।