দুপুর ১২:৫৫ ; বুধবার ;  ২২ মে, ২০১৯  

এর মতো ননসেন্স কথা হতেই পারে না: মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মাহমুদ মানজুর।।

সম্প্রতি ‘গানের তথ্য বিভ্রাট’ প্রসঙ্গ নিয়ে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে খ্যাতিমান গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও জনপ্রিয় নজরুল সংগীত শিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান লীনা তাপসী খানের মধ্যে। লীনা তাপসী খানের একটি মন্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনকে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান বলেছেন, ‘এর মতো ননসেন্স কথা হতেই পারে না।’

গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘সংগীত উৎসব–২০১৫’। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান (১৯৫৬–২০১০) শীর্ষক এই উৎসবে চলচ্চিত্র সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন গুণী ব্যক্তিত্বকে (মৃত ও জীবিত) সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রকাশ করা হয় তথ্যসমৃদ্ধ একটি স্মরণিকা। যেখানে ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গান’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মহসিনা আক্তার খানম (লীনা তাপসী খান)। আর এই নিবন্ধের বেশকিছু ভুল তথ্য নিয়ে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান গুরুতর আপত্তি তুলেছেন।

এটি নিয়ে সোমবার প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে বাংলা ট্রিবিউনের এক্সক্লুসিভ বিভাগে। যাতে আত্মপক্ষ সমর্থনে লীনা তাপসী খানের ভাষ্য ছিল- “তিনি (রফিকউজ্জামান) আমাকে গত সপ্তাহে ফোন করেছেন। প্রথমেই আমাকে বললেন- ‘আপনারা মনিরুজ্জামানকে (ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান) নমিনেশন দিয়ে সম্মাননা দিয়েছেন, আমিও তো ছিলাম...।’ তার এমন কথা শুনে অবাক হলাম। বললাম, রফিক ভাই পরের সিরিয়ালে আপনাকেও রেখেছি। আপনারা তো এখনও সুস্থ আছেন। আমাকে বিব্রত না করে আপনাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। মূলত এই কথার পরই তিনি আমার স্মরণিকার লেখার ভুল তথ্য নিয়ে কথা বলেন। আমিও উনাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি।”

এদিকে লীনা তাপসীর এমন মন্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। ‘এর মতো ননসেন্স কথা হতেই পারে না’ তাৎক্ষণিক মন্তব্য ছাড়াও তিনি বলেন, “স্মরণিকায় তার (লীনা তাপসী) ভুলে ভরা লেখাটি পড়ার পর এবং অনেক অভিযোগ পাওয়ার পর আমি তাকে ফোন দেই। নিজের পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বলেন- ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ রফিক ভাই আপনার বিষয়টাও আমরা সিরিয়ালে রেখেছি। আপনাকেও সামনে সম্মানিত করতে চাই।’ আমি থামিয়ে দিলাম তার কথা। বললাম, আমি তো আসলে এই বিষয়ে ফোন করিনি। আমি জীবনেও কারও কাছ থেকে চেয়ে সম্মান নেওয়ার মানুষ নই। আমি ফোন দিয়েছি স্মরণিকায় প্রকাশিত আপনার লেখায় কিছু ভুল তথ্যের বিষয়ে কথা বলতে। এই বলে আমি তার লেখার ভুল অংশটি পড়ে শোনাই। তিনি বললেন, ‘এখন আমি কী করতে পারি?’ আমি বললাম, আপনি লেখাটা সংশোধন করতে পারেন। না হয় দুঃখপ্রকাশও করতে পারেন। অথচ তিনি কিছুই করলেন না। উল্টো যা তা বলছেন গণমাধ্যমে।”

মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও লীনা তাপসী খান

রফিকউজ্জামান আরও বলেন, ‘আমার বড় ভাই ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও তার কালজয়ী সৃষ্টিকে যে মানুষ সম্মান করতে জানে না, সে আমাকেও অসম্মান করতে কার্পণ্য করবে না- এটা স্বাভাবিক। আজ গর্ব করে বলি- আমি সেই মানুষ, যে কিনা আবেদন করতে হয় বলে এখনও একুশে পদক পাইনি। তিন তিনবার ওরা (সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়) আমাকে আবেদনের অনুরোধ করেছে। কারণ একুশে পদক পেতে হলে আবেদন করতে হয়। এটাই নাকি সরকারি নিয়ম। আমি ওদের প্রতিবারই বলেছি, আবেদন করা সিস্টেমে আমি কোনও পদক নিতে চাই না। অথচ আজ তিনি (লীনা তাপসী) কী বলছেন এসব! ছিঃ! কতগুলো মুর্খ একত্রিত হলে যা হয়, তাই হচ্ছে। এর মতো ননসেন্স কথা হতেই পারে না। তার ভুল হয়েছে, অথচ সে দুঃখিত পর্যন্ত বলতে রাজি না। উল্টো বাজে কথা বলছে। আলটিমেটলি হয়তো আমি তাকে উকিল নোটিশ পাঠাবো, হয়তো মামলাও করবো।’    

প্রসঙ্গত, লীনা তাপসীর ওই নিবন্ধে বেশ কিছু কালজয়ী গানের গীতিকার-সুরকারের নাম ভুল আছে। যাতে লীনা লিখেছেন, ‘এতটুকু আশা’ ছবিতে আব্দুল জব্বারের কণ্ঠে ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’ এবং সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ‘মিছে হলো সবই যে মোর’ গান দুটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। অথচ এ দুটিসহ এই ছবির সব গানই লিখেছেন প্রয়াত নন্দিত গীতিকবি ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। শুধু তাই নয়, একই নিবন্ধে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের লেখা ‘সুরের গলায় লটকে আছে' শিরোনামের একটি গানকে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের লেখা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।