রাত ১২:২২ ; শনিবার ;  ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

চ্যালেঞ্জের মুখে তৈরি পোশাকের রুলস অব অরিজিন স্বত্ত্ব

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্র্রিবিউন রিপোর্ট।।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই বাণিজ্য উদারীকরণে বিভিন্ন দেশ আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে ট্যারিফ বা শুল্ক প্রতিবন্ধকতা কমাতে একমত হয়েছিল। ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার নতুন বাজার সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির অপার সম্ভবনা দেখা দেয়। 

অপরদিকে, শুল্ক হ্রাসের ফলে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় শিল্প মারাত্মক প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হয়। প্রয়োজন দেখা দেয় স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক হ্রাস পেলেও বিভিন্ন দেশ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রনের হাতিয়ার হিসেবে নানা ধরনের অশুল্ক পদক্ষেপ চালু করেছে।

গুরুত্বপুর্ণ তথ্য, বিভিন্ন সুবিধা এবং সক্ষমতার অভাবে এ ধরনের অশুল্ক পদক্ষেপের জটিল আবশ্যকীয়তা পালন করা উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের জন্য রীতিমত ব্যয়সাধ্য। এতে তারা পণ্য বাণিজ্যে সক্ষমতা হারায়। এই অশুল্ক বাঁধাগুলো হল প্রধানত এন্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেলিং, সেফগার্ড মেজার্স প্রভৃতি।

মঙ্গলবার নারাণগঞ্জস্থ বিকেএমইএ’র প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের নীট তৈরি পোশাক শিল্পের প্রস্তুতকারক ও রফতনিকারকদের অশুল্ক পদক্ষেপ সম্পর্কে সম্যক ধারণা, বিদ্যমান সমস্যা ও এর সমাধানকল্পে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে এ সব তথ্য জানানো হয়।

উক্ত সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘তৈরি পোশাক শিল্পে অশুল্ক বাঁধাঃ সমস্যা ও করণীয়’। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সহযোগিতায় এ সেমিনারের আয়োজন করে বিকেএমইএ।

বিকেএমই’র সহসভাপতি জি এম ফারুক সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আফরোজা পারভীন, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ।

বিকেএমইএ পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, প্রথাগত বাণিজ্যিক বাঁধায় বাংলাদেশের পোশকখাতের অনেক কারখানার বেশ কিছু উৎপাদন উপাদান যেমন সুতা, জিপার, ফেব্রিক্স, প্যাকেট, লেভেল ইত্যাদি ক্রেতার ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে কিনতে হয়। এতে উৎপাদন খরচের সঙ্গে লীড-টাইম বাড়ে। এটি রফতানি বাজারে প্রতিযোগীতামূলক সক্ষমতাকে হ্রাস করে।

তিনি আরও বলেন, অশুল্ক পদক্ষেপগুলো অনেক বিন্তৃত এবং বৈচিত্রময় হয়। এর বিষয়ে ব্যবসায়ীগণ, প্রস্তুতকারক, রফতানিকারক কারও সুস্পষ্ট ধারণা নেই। অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা বিষয়ক অভিযোগ ডেক্স থাকলেও অভিযোগ সংখ্যা প্রায় নেই বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

বিকেএমইএ’র সাবেক সহসভাপতি মোঃ হাতেম বলেন, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত আর্থিক পদক্ষেপে অনেক সময় রফতানি বাধাগ্রন্ত  হয়। রফতানিকারক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হন।

তিনি বলেন, কঠোর সোস্যাল কমপ্লায়েন্স মানা হলেও রফতানি মূল্যে তার প্রতিফলন সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। বরং পোশাক উৎপাদন খরচ ক্রমশ বাড়ছে।

কঠোর বৈষম্যমূলক কমপ্লায়েন্স এর সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্সের যে ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে পোশাক রফতানি করা হয়, প্রতিযোগী  ভারত, কম্বোডিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশগুলোকে এর মুখোমুখি হতে হয় না।

মেসার্স উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডের পরিচালক অপূর্ব শিকদার বলেন, এদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের বিভিন্ন ধরনের সনদের মুখোমুখি হতে হয়। এগুলোর প্রারম্ভিক ও বার্ষিক নবায়ন ফি অনেক বেশি। এতে ছোট এবং মাঝারি কারখানার পক্ষে ভিন্ন ভিন্ন সনদ অর্জন করা সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, পোশাকের মান নির্ণয়ের জন্য নমুনা বিদেশে পাঠাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনে সময়ক্ষেপনসহ খরচ বাড়ে।

রুলস অব অরিজিন এবং উন্নয়নশীল দেশের বাণিজ্যের ওপরে বৃহত্তর বাণিজ্যের চুক্তির প্রভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ফেব্রিক্স, ইয়ার্ন এবং অ্যাক্সেসরিজ ক্রেতার ইচ্ছানুযায়ী অন্যান্য দেশ হতে আমদানির বাধ্যবাধকতায় বাংলাদেশের তৈরী পোশাকে রুলস অব অরিজিন স্বত্ত পূরণ করাকে প্রায়ই চ্যাঞ্জের মুখোমুখি পড়তে হয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার বাইরেও বিশ্বের বেশ কিছু উন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যচুক্তি যেমন টিটিপি, টিটিআইপি করেছে। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীলদেশের সক্ষমতা হ্রাস পাওয়াসহ অশুল্ক বাধা তৈরি হচ্ছে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।