রাত ১১:৪০ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

সার্ক আন্তঃবাণিজ্য বাড়াতে অভিন্ন মান ব্যবস্থার তাগিদ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বাড়াতে পণ্য ও সেবার অভিন্ন মান ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, সার্ক অঞ্চলে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মানুষ বাস করলেও বর্তমানে দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ সম্মিলিত রফতানি মাত্র ৫ শতাংশ। পণ্য ও সেবার গুণমান বাড়িয়ে সার্কভূক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রফতানির প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।   

সার্কের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মান সংস্থা (South Asian Regional Standards Organization, SARSO) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সারসো ভবনে মঙ্গলবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। 

দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক মান সংস্থার (সারসো) মহাপরিচালক ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্য শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (সার্ক) রাহাত বিন জামান, সারসোর পরিচালক ইন্দু বিক্রম জশী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সার্কভূক্ত দেশগুলোর হাইকমিশনারসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার্ক অঞ্চলের দেশগুলো আর্থসামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। ফলে দেশগুলোয় দারিদ্র্যের হার কমার পাশাপাশি মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

তিনি জনগণের চাহিদা অনুযায়ী গুণগতমানের পণ্য ও সেবার যোগান দিতে সার্ক অঞ্চলে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক বিনিয়োগে শিল্প কারখানা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বিদ্যমান কারিগরি বাঁধা দূর করতে বাংলাদেশের জাতীয় মানসংস্থা বিএসটিআই এবং ভারতের বিআইএসের মধ্যে সম্প্রতি পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে রফতানি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসছে।

রফতানি বাণিজ্য জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সার্কভূক্ত অন্যান্য দেশের সাথে একই ধরনের চুক্তি করতে আগ্রহী বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থা (সারসো) সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোতে অভিন্ন মান নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে ৩৬টি কমন পণ্য চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৭টি পণ্যের মান চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এগুলো প্রকাশ করা হবে। বাকী পণ্যের মানও তৈরির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব অভিন্ন মান চালু হলে, সার্কভূক্ত দেশগুলোতে গুণগতমানের পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও সার্ক অঞ্চলের অবস্থান শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।