দুপুর ০১:০৭ ; মঙ্গলবার ;  ১৩ নভেম্বর, ২০১৮  

পাটের মোড়ক: ৭ দিনে ১৬৯৪ মামলা, জরিমানা ৳৭২০০

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিতে দেশব্যাপী চলমান সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয় গত ৩০ নভেম্বর। ওই দিন থেকে গতকাল রবিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ৭ দিনে এ সংক্রান্ত আইন ভঙ্গের অভিযোগ ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৬৯৪টি মামলা এবং ৭১ লাখ ৯১ হাজার ৭০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেছে।

আইন অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সার মোড়কীকরণে পাটের পরিবর্তে কৃত্রিম মোড়কের ব্যবহার, বিক্রি, বিতরণ বা সরবরাহ করলে বা করার অনুমতি দিলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ  করলে সাজা দ্বিগুণ হবে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর আজম বলেন, জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন নির্বাহী হাকিমরা। ছুটির দিন থাকায় শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ছিল ৩০টি এবং  শনিবার ছিল ৫৭টি। রবিবার থেকে অভিযান আবার পুরোদমে চলছে।

তিনি আরও বলেন, বাধ্যতামূলক মোড়কীকরণ আইন, ২০১০ কার্যকরে কাজ করে যাচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি- এ ছয়টি পণ্য পরিবহনে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে কাজ করছে ১০টি পর্যবেক্ষক দল।

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) মহাব্যবস্থাপক (বাজারজাতকরণ) ও বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণ কক্ষের প্রধান মুজিবর রহমান মল্লিক বলেন, ছয়টি পণ্যে রাতারাতি সবাই শতভাগ পাটজাত মোড়ক ব্যবহার করবে বিষয়টি এমন নয়। তবে, এ জন্য সময়ের প্রয়োজন, ।

তিনি আরও বলেন, বিজেএমসির মজুদে ছিল এক কোটি চার লাখ ৪০ হাজার পাটের ব্যাগ। সম্প্রতি ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৮টি ব্যাগ উৎপাদন করা হয়েছে । জমা আছে প্রায় আড়াই কোটি বস্তা। পাশাপাশি দৈনিক  উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ বস্তা। চাহিদার সঙ্গে আমাদের সরবরাহের কোনো কমতি নেই।

বিজেএমসির গুদাম ও সারাদেশের মিলের মাধ্যমে ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী  মাধ্যমে এক মাস ধরে পাটের ব্যাগ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অভিযান পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের প্রথম দিন ৩০ নভেম্বর সারাদেশে অভিযান পরিচালনাকারী ১৬১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি ৩৮০টি মামলা করেছে।

দ্বিতীয় দিন গত ১ ডিসেম্বর, ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩৪৬টি মামলা ও ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। তৃতীয় দিন গত ২ ডিসেম্বর,  ৩০৮টি মামলা এবং ১২ লাখ ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। চতুর্থ দিন গত ৩ ডিসেম্বর, ১১১টি মামলা ও ৭ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায়। পঞ্চম দিন ৪ ডিসেম্বর, ৫৫টি মামলা ও ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায়।ষষ্ঠ দিন ৫ ডিসেম্বর, ১২৯টি মামলা এবং ৪ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায়। গতকাল সপ্তম দিন ৬ ডিসেম্বর রবিবার রাত ১০টা পর্যন্ত, ২৫৬টি মামলা এবং ১৭ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায়।

/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।