বিকাল ০৪:৫০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

ওজন কমাতে চান শাবনূর, আপত্তি পরিচালকদের!

প্রকাশিত:

মাহমুদ মানজুর।।

অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ভালো বিপাকে আছেন শাবনূর। মুটিয়ে যাওয়া, উপযুক্ত নায়ক না পাওয়া- নানামুখী মন্তব্য অনেকটা মুখ বুজেই সহ্য করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল এ চিত্রনায়িকা। মেনেও নিয়েছেন মনে মনে। তাই তো শেষবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার আগে ‘ষোড়শী দর্শনের’ কথা দিয়ে গেছেন মিডিয়াকে। বলেছেন, ‘ওজন কমিয়ে শিগগিরই ফিরছি, ঠিক আগের মতোই।’

কথা রাখার চেষ্টা করেছেন। অস্ট্রেলিয়া জীবনের শেষ দুই মাস ডায়েট চার্ট ধরেই চালিয়েছেন নিজেকে। ১৫ নভেম্বর ২০১৫ দেশে ফিরেছেন লম্বা সময় নিয়ে। উদ্দেশ্য, ফের রূপালি গণ্ডিতে নিয়মিত হওয়া। নতুন ছবির খবর না দিলেও, প্রতিজ্ঞার সুরে বলেছেন- দীর্ঘদিন ধরে যে তিন-চারটি ছবি আটকে আছে, সেসব এবার শেষ করবেন। ভাববেন নতুন ছবি নিয়েও।

উত্তরায় তার পাশের ফ্ল্যাটে থাকা সহকর্মী চিত্রনায়ক অমিত হাসান সেটাই জানিয়েছেন মিডিয়াকে, শাবনূরের বরাতে।

গেল তিন বছরের শাবনূর

তবে ঢাকায় ফেরার ২০ দিনের মধ্যেও শ্যুটিংয়ে ফেরার নাম নেই তার। মিডিয়া বিমুখ শাবনূরকে খুঁজে পাওয়া গেল মুঠোফোনে। জানালেন কপালে চোখ ওঠার ঘটনা! বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন,‘অস্ট্রেলিয়ায় শেষ দুই মাসে ডায়েট কন্ট্রোল করে প্রায় আট কেজি ওজন কমিয়েছি। দেশে ফিরে ওজন আরও কমানোর পরিকল্পনা ছিল। অথচ এখন সব ভেস্তে গেল।’

ভেস্তে যাবেনাই বা কেন! এবারও ওজন নিয়ে তাকে শুনতে হচ্ছে নানা মুনির নানামত। অবশ্য এবার মতামতগুলো আসছে সিনেমা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেই। যেমন অসমাপ্ত ‘এমনো তো প্রেম হয়’ ছবির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ভাষ্য এমন, ‘শাবনূর হালকা গড়নের হলে তার ছবির ধারাবাহিকতা মার খাবে। কারণ এ ছবির আগের দৃশ্যে মোটা শাবনূরকেই পেয়েছি আমি। ফলে একই ছবিতে দুই রকমের শাবনূরকে মোটেই প্রত্যাশা করি না।’ এ পরিচালক জানান, এই ছবিতে বিরহের একটি গানের শ্যুটিং বাকি আছে। যা এ মাসের মধ্যেই শেষ করতে চাইছেন। মনে ভয়, যদি শাবনূর আগামী মাস নাগাদ শুকিয়ে যান!

সুপার হিট সময়ের শাবনূর

অন্যদিকে শাবনূরের আরেক অসমাপ্ত ছবি বদিউল আলম খোকনের ‘পাগল মানুষ’-এর বেলাতেও একই অবস্থা। জানা গেছে, একই কারণে এই ছবির পরিচালকও শাবনূরের বর্তমান ডায়েট প্ল্যানিংয়ের বিরুদ্ধে। এই ছবির দুটি গানের শ্যুটিং বাকি আছে এখনও। যদিও ‘স্থুলকায়’ শাবনূর অভিনীত অসমাপ্ত আরও দুটি ছবি রয়েছে। একটি নজরুল ইসলাম খানের ‘স্বপ্নের বিদেশ’ অন্যটি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘অবুঝ ভালোবাসা’। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ দুটি ছবি সংশ্লিষ্টরা গত প্রায় তিন বছরধরে তাকিয়ে আছেন শাবনূরের ডায়েট চার্টের দিকে। শুধু দুই নির্মাতাই নন, খবর মিলছে অনেক নির্মাতা-প্রযোজকই অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় আছেন ‘ষোড়শী শাবনূরে’র প্রত্যাবর্তনের দিকে। 

এখন তাহলে কী করবেন? খানিক নিরুপায় অনেকটা আত্মবিশ্বাসীর সুরে শাবনূর বললেন, ‘কী আর করা! দুটি ছবির জন্য আবার উল্টো পথেই হাঁটতে হচ্ছে। কারণ ২০১২ সালে ছবি দুটির শ্যুটিং শুরু করি। তখন ভালোই মোটা ছিলাম। পর্দায় সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা উচিত। যদিও আমি সেটা বেমালুম ভুলেই গেছিলাম। এখন ভেবে দেখলাম, একই ছবিতে মোটা আর চিকন শাবনূরকে দেখে দর্শক বিরক্তই হবে। সমালোচিত হবেন নির্মাতারা। তাই এই দুটি ছবির শ্যুটিং শেষ হওয়া পর্যন্ত আমার ডায়েট প্ল্যান স্থগিত।’

সাজ্জাদ হোসেন-এর ক্যামেরায় সাম্প্রতিক শাবনূর

/এমএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।