রাত ১২:০৮ ; মঙ্গলবার ;  ১৭ জুলাই, ২০১৮  

পৌর নির্বাচন: ঋণখেলাপীদের খোঁজে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

নির্বাচন কমিশনে তফসিল অনুসারে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশব্যাপী ২৩৪টি পৌরসভায় চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমাদান শুরু করেছেন। এ নির্বাচনে বিভিন্ন পদে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী মধ্যে ঋণখেলাপি সনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছে সিআইবি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) মহাব্যবস্থাপক মনছুরা খাতুন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হালনগাদ ঋণতথ্য  সিআইবি তথ্যভাণ্ডারে রয়েছে। ৫০ হাজার টাকার নিচে বকেয়া ঋণস্থিতি সম্পন্ন ঋণখেলাপি এবং ৩১ অক্টোবরের পরবর্তীতে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি  সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্র, শনি ও সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রবিবার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর সিআইবি সেল খোলা থাকবে।

ঋণখেলাপী প্রার্থীদের সনাক্তকরণে নির্বাচন কমিশেনর পাশাপাশি এ বিষয়ে অবহিত করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরকেও চিঠি দিয়েছে সিআইবি।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তালিকা পাওয়ার পরই ঋণখেলাপি প্রার্থীদের তালিকা সরবারহ করা যাবে। এ জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীর ঋণ সংক্রান্ত তথ্য পেতে সব প্রার্থীকে পূর্ণনাম, পিতার নাম, মাতার নাম, স্বামীর নাম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) নম্বর, করদাতা শনাক্তকরণ সংখ্যা (টিন), জন্ম তারিখ, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সম্বলিত তথ্য সংযুক্ত ছক অনুযায়ী যথাযথভাবে পূরণ করে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সিআইবি বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ঋণখেলাপিদের বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পরিপত্রটিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৯(২)(ঝ)(ঞ) এর বিধানবলে ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। নির্বাচনে যাতে ঋণ খেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণা করা যায় সেজন্য এ সংক্রান্ত তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকলে প্রার্থী অযোগ্য হবেন।

তবে নিজস্ব বসবাসের জন্য নেওয়া গৃহ-নির্মাণ অথবা ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ এর আওতাভুক্ত হবে না। এমন কি কোনো কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের কোনো কিস্তি খেলাপি হয়ে থাকলে সেটিও এর আওতায় পড়বে না।

/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।