ভোর ০৬:০৩ ; বুধবার ;  ২৩ অক্টোবর, ২০১৯  

অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের শিল্পনীতি রফতানিমুখী

প্রকাশিত:

বাংলা ট্র্রিবিউন রিপোর্ট।।

রফতানিমুখী শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে বাংলাদেশ দ্রæত অর্থনৈতিক উন্নয়নের নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ গড়ে ৬ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক, হিমায়িত মৎস্যসহ কৃষিভিত্তিক শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

শিল্পমন্ত্রী বুধবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইউনিডোর ১৬তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে ‘অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য অব্যাহত বাণিজ্যিক সাফল্য’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এ সব কথা বলেন।

এতে অন্যদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউনিডোর সহায়তায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন ‘বেটার ওয়ার্কস্ অ্যান্ড বেস্ট স্ট্যান্ডার্ডস প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্পের জাতীয় পরিচালক সালেহ্ আহমেদ, বিসিএসআইআর’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খান, বাংলাদেশে ইইউ  প্রতিনিধি দলের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা রুবায়েত জেসমিন বক্তব্য রাখেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল জলিল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও পণ্যের নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ সরকার গৃহিত নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বিশ্ব বাজারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, হিমায়িত মৎস্য, চিংড়িসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্য টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশে গুণগতমানের অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে সঞ্চালক টড বেঞ্জামিন বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশ এখন একটি সুসংহত শক্তি। গত এক দশকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে গুণগতমানের বস্ত্র, তৈরি পোশাক, হিমায়িত মৎস্য, চিংড়িসহ কৃষিভিত্তিক পণ্য সরবরাহে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি ইউরোপীয় বাজারে রফতানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক মান ব্যবস্থার আদলে বাংলাদেশে পরিচ্ছন্নতা, উন্নত গবেষণাগার ও পরীক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

প্যানেল আলোচনায় জানানো হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেটার ওয়ার্কস্ অ্যান্ড বেস্ট স্ট্যান্ডার্ডস প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন চিংড়ি শ্রমিক এবং ৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন গার্মেন্টস্ শ্রমিকের উন্নয়নে কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে গত পাঁচ বছরে প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দ ২৩০ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৬০০ মিলিয়ন ইউরো করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে তৈরি পোশাক ও চিংড়ি শিল্পখাতের শ্রমিকের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাদ্য, সুপেয় পানি সরবরাহসহ বিভিন্নখাতে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।  

আমির হোসেন আমু বলেন, সরকারের সুশাসনের ফলে উদ্যোক্তাদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। রফানিমুখী শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অভিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।