রাত ০৫:৫১ ; শুক্রবার ;  ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮  

খালেদার বিরুদ্ধে দুই মামলা: পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ১০ ডিসেম্বর

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ২৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতে দুই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।

কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে নির্মিত অস্থায়ী এজলাসে সাক্ষীদের জেরা ও জবানবন্দি শেষে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার দুই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে না পারায় তার পক্ষে আইনজীবী মো. সানাউল্লাহ মিয়া হাজিরা দেন।

পরে গত ১৯ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়া রাষ্ট্রপক্ষের চার সাক্ষী কুষ্টিয়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এসইভিপি জিয়াউদ্দিন এম ঘুনি, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার কামরুজ্জামান, দুদকের দুজন কনস্টেবল মঞ্জুরুল হক ও সিরাজউদ্দিনদেরকে খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামির আইনজীবীরা জেরা করেন।

এ ছাড়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার ২৬তম সাক্ষী হিসেবে দুদকের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসানের জনানবন্দি গ্রহণ করেন বিচারক। আগামী ধার্য তারিখে আসামিপক্ষের আইনজীনীরা সাক্ষীকে জেরা করবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এদিকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে তা বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে রিভিউ পিটিশন শুনানির অপেক্ষায় থাকার কারণে কোনও সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। এই মামলাটিতে এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। তাকে আসামিপক্ষের জেরা বাকি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিনে থাকা আসামি বিআইডব্লিউটি-এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আদালতে হাজির ছিলেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে হাজিরা দেন তার আইনজীবী মো. সানাউল্লাহ মিয়া। আসামিদের মধ্যে জামিনে থাকা মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদও হাজিরা দেন। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

অরফানেজ ট্রাস্টের মামলাটিতে এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। তাকে আসামিপক্ষের জেরা বাকি রয়েছে। আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির পর এ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

গত বছরের ১৯ মার্চ দুই দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

 

দুর্নীতির দুই মামলা-

ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও থানার দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। পরের বছর ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অন্য মামলাটিও দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

গত বছরের ৭ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন মামলা দুটির বিচারিক কার্যক্রম ঢাকার মেট্রোপলিটন দায়রা জজ আদালত ভবনের পরিবর্তে ঢাকা মহানগরের বকশীবাজার এলাকার কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে চালানোর আদেশ জারি করা হয়। এরপর থেকে এখানেই মামলা দুটির বিচার চলছে।

 

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।