সকাল ০৯:৩৮ ; রবিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৮  

নারী প্রোগ্রামার খুঁজতে নারীদের নিয়ে প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম।।

দেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কম্পিউটার গ্র্যাজুয়েট বের হয়। এর মধ্যে সবাই প্রোগ্রামার হতে চায় না। কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৪ বছরের গ্র্যাজুয়েশন কোর্সে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তার মধ্যে মাত্র ৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রোগ্রামিংয়ে আসে। যেখানে নারী প্রোগ্রামারের সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা। যা শতাংশ দিয়েও প্রকাশ করা মুশকিল।

তাই প্রোগ্রামিংয়ে নারীদের আগ্রহী করে তুলতে এবার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিবছর ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষা সপ্তাহ। প্রতিযোগিতা হবে এই সময়টাতেই। অন্যান্য আয়োজনের পাশাপাশি এবার থাকছে শুধু মেয়েদের জন্য প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা।

এ প্রসঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ভাষ্য, সময়ের প্রয়োজনেই এটা দরকার। আমরা তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাই।

তিনি আরও যোগ করেন, নিশ্চিতভাবেই আমাদের আরও প্রোগ্রামার প্রয়োজন। কিন্তু তাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে চলতি বছর দেশব্যাপী নানা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এর সহ-আয়োজক। এই আয়োজনে আরও সহযোগিতা করছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কোডমার্শাল, ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ, গুগল ডেভেলপার গ্রুপ বাংলা, গুগল উইম্যান টেকমেকার্স ও দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল।

এই আয়োজনের উল্লেখযোগ্য অংশ হলো দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ার অব কোড বা এক ঘণ্টার প্রোগ্রামিং-এর আয়োজন। এতে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এ আগ্রহী করে তোলা হবে। এছাড়া ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন প্রোগ্রামিং কনটেস্ট। এই প্রতিযোগিতায় ৭ হাজারের বেশি প্রোগ্রামার অংশ নেবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

আরও জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট। এতে হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেয়েরা দলগতভাব অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রামিং আড্ডা ও প্রোগ্রামিং কর্মশালারও আয়োজন করা হবে। সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ১৫ ডিসেম্বর।

 

ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (এনজিপিসি):

হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হবে মেয়েদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। হাইস্কুলের ২ বা ৩ জনের দল অংশ নিতে পারবে। যেকোনও স্কুলের ২-৩ জন মিলে দল গঠন করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় দল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে গঠন করতে হবে। ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টে-এর নিবন্ধন ফি দলপ্রতি হাইস্কুলের জন্য ৫০০ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১ হাজার টাকা। বিজয়ীদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকছে। ১২ ডিসেম্বর সকাল থেকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সোবহানবাগ ক্যাম্পাসে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিতে হলে নাম নিবন্ধন করতে হবে

http://cseweek.bdosn.org/registration এই ঠিকানায়।

এ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) -এর সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রোগ্রামারদের চাহিদা বাড়ছে। তবে এখন বোঝা যাচ্ছে, ছোটবেলা থেকে কোডিংয়ে আগ্রহ তৈরি হলে প্রোগ্রামিংয়ে ভালো করা যায়। এসব কারণেই আমাদের এই আয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রোগ্রামিংয়ে মেয়েদের সংখ্যা খুবই কম। এটা আমাদের জন্য মোটেও সুখকর বার্তা নয়।

তিনি আরও বলেন, স্কুল পর্যায় থেকে প্রোগ্রামিং শুরু করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগাতে পেরেছি। মেয়েদের অংশগ্রহণও দেখেছি উল্লেখযোগ্য হারে। আমাদের এটা ধরে রাখতে হবে।  

এ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টিম ইঞ্জিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেসিসের পরিচালক সামিরা জুবেরী হিমিকা বলেন, দেশে নারী কোডার আর প্রোগ্রামারের সংখ্যা হাতে গোনা যা ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা পূরণ করে না। এখানেই নারী কোডার আর প্রোগ্রামারদের বিরাট বড় একটা সুযোগ আছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।          

দেখা গেল, ৫০০টা অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। খুঁজলে দেখা যাবে হয়তো মাত্র ২টা অ্যাপ মেয়েদের তৈরি। খুবই হতাশাজনক চিত্র। হিমিকা বলেন, প্রযুক্তিতে মেয়েদের অংশগ্রহণ একেবারেই কম। যারা কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করছে তাদের সফটওয়্যার পড়ানো হয়, শেখানো হয়। প্রোগ্রামিংটা সেভাবে শেখানো হয় না। এই উদ্যোগটা আমাদের নিতে হবে।

 

অনলাইনে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা: অনলাইন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার জন্য নিবন্ধন ফির প্রয়োজন হবে না। হাইস্কুল ও অন্যান্য এই দুই ক্যাটাগরিতে যে কেউ অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে কোডমার্শাল (www.codemarshal.com) প্ল্যাটফর্মে। প্রতিযোগিতায় প্রথম ১০০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে এবং অংশগ্রহণকারীদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এতে সমস্যার সমাধান করতে হবে সি/সি++ প্রোগ্রামিং ভাষায়। ১১ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিস্তারিত জানা যাবে:

http://cseweek.bdosn.org এই ঠিকানায়।

 

/এইচএএইচ/এইআর/এফএ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।