সকাল ০৯:২২ ; শুক্রবার ;  ১৭ আগস্ট, ২০১৮  

যেভাবে ছড়ানো হয় ইসলামবিদ্বেষ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মিছবাহ পাটওয়ারী।।

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার পর নতুন করে সামনে আনার চেষ্টা করা হয় ইসলাম আর পাশ্চাত্যের সংঘাতের প্রশ্নকে। পাশ্চাত্যের প্রচারণা-প্রকৌশল ছড়াতে থাকে ইসলামবিরোধী ঘৃণা আর বিদ্বেষ। সেই ঘৃণা আর বিদ্বেষকে সঙ্গী করে নির্মাণ করা হয় ইসলামফোবিয়ার তথা ইসলামভীতির সংস্কৃতি।

সম্প্রতি সেই ঘৃণা আর বিদ্বেষের নজির গড়লেন মার্কিন ধনকুবের ও টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো তারকা ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার ধ্বসে পড়ার পর তিনি নিউ জার্সিতে কয়েক হাজার আরব আমেরিকানকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সঙ্গে অবশ্য একমত নন মার্কিন মুসলিমরা। তাদের মতে, এগুলো যারা বলছে তারা হয় ভুল করছে অথবা মিথ্যা বলছে।

এবিসি টেলিভিশনকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি টেলিভিশনে এ ঘটনা দেখেছি।”

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির এ মনোনয়নপ্রত্যাশী ধনকুবের বলেন, “নিউ জার্সির অন্য অংশে লোকজন উচ্ছাস প্রকাশ করছিল। সেখানে বিপুল সংখ্যক আরব জনগোষ্ঠীর বসবাস। বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ধ্বসে পড়ার ঘটনায় তারা আনন্দ প্রকাশ করছিল।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামবিরোধী ব্লগগুলোতেও এ ধরনের ঘটনার ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই এটা প্রচার করা হচ্ছে। অথচ কোনও প্রতিবেদনে এটা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি যে, এ ঘটনায় আরব আমেরিকানরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। তবে ওই প্রচারণার কারণে হরহামেশাই ঘৃণার শিকার হয়েছেন মুসলমানরা।

‘কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স’-এর জাতীয় যোগাযোগ পরিচালক ইব্রাহিম হুপার। বাজফিডকে তিনি বলেন, ট্রাম্প “হয় ভুল করছেন নয়তো মিথ্যা বলছেন।”

ইব্রাহিম হুপার বলেন, “ইসলামবিরোধী সাইটগুলোতে কোনও তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই এসব বিষেদগার ছড়ানো হচ্ছে। ট্রাম্প যেটা দাবি করেছেন সেটা তিনি নিজে দেখলেও হতো। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি।”

ট্রাম্পের দাবিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জার্সি সিটির ডেমোক্র্যাট সমর্থক মেয়র স্টিভেন ফুলপ।

তাহলে ট্রাম্পের দাবির ভিত্তি বা রহস্য কী? তিনি কি আমেরিকান মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন? এর পেছনে কি ইসরায়েলের স্বার্থসিদ্ধির কোনও বিষয় রয়েছে? এটা কি তথাকথিত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে মুসলমানদের দাবিয়ে রাখার কৌশল?

এ বিষয়ে বাজফিডের সঙ্গে কথা হয় ইহুদি গ্রুপ এন্টি ডিফামেশন লিগের।  তারাও মানছেন, ট্রাম্পের কথা যথার্থ নয়। ওই গ্রুপের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য মূলত একটি বিদ্বেষমূলক অতিকথনের পাল্টা জবাব; যে অতিকথনে দাবি করা হয়েছে, টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার ঘটনায় একদল ইসরায়েলিকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ইহুদি গ্রুপটির দাবি, ইসরায়েলকে দোষারোপ করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

টুইন টাওয়ারে হামলার পর এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ ইসরায়েলিকে আটক করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হয়ে গোয়েন্দাবৃত্তির অভিযোগ উঠলেও কোনও অভিযোগ গঠন ছাড়াই তাদেরকে ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হয়।

দেশে ফিরে তাদের একজন গণমাধ্যমকে বলেন, তারা ওই হামলা উদযাপন করেননি। বরং প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তারা ঘটনা রেকর্ড করছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য ছিল “এ ঘটনার একটি ডকুমেন্ট তৈরি করা।”

ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত ইসলামবিরোধী ওয়েবসাইটগুলোর ভিত্তিহীন প্রচারণাকে ধারণ করে। এমন প্রচারণা নিয়ে চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে। কিন্তু মার্কিন মুসলমানদের নিজ দেশের ক্ষতির খবরে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি।

বরং এর উল্টো ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সির মুসলমানরা বলছেন, টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনায় তারাও বিমর্ষ বোধ করছেন। সূত্র: বাজফিড।

/এমপি/বিএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।