রাত ১০:০৪ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ: পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী, বিপক্ষে অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ঘোষণা নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিশ্বব্যাংকের র‌্যাংকিংয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হয়েছে—বাণিজ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই স্ট্যাটাসটা দেয় জাতিসংঘ। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এই ঘোষণা আসতে পারে। এ জন্য আমাদের আরও দু’বছর অপেক্ষা করতে হবে। এখনই বলা যাবে না—বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত  হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত এক সভায় সরকারের সিনিয়র এই দুই মন্ত্রী মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। বিশ্বের কাছে এটা আমরা বলতে পারি। নতুন পরিচয়ে বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরও সম্মান বেড়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী যখন এই বক্তব্য রাখছিলেন, তখন মঞ্চে বসেই অর্থমন্ত্রী বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন এবং ‘নো নো নো’ বলে নিজের দেওয়া আগের বক্তব্যে অটল থাকেন। পরে আবার অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, ২০২১ সালের আগে আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলেও নিজেদের সেভাবে পরিচয় দেওয়া উচিত হবে না। কেউ যদি বলেও আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছি, তাহলেও আমরা সে বক্তব্য গ্রহণ করব না। কারণ, সেটা গ্রহণ করলে দাতারা আমাদের যে সুবিধাগুলো দেয়, তা কমিয়ে দেবে। এ কারণেই আমরা ২০২১ সালের আগে নিজেদের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচয় দিতে চাই না।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ইতোমধ্যেই জাপানসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ঋণের সুদ বাড়ানোর নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং দাতাদের সুদ বাড়ানোর চেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে প্রবেশ করায় বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এরই মধ্যে সুদের হার বাড়াতে চাচ্ছে। এটি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কেননা, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে যাব, এটি সত্যি। কিন্তু তাই বলে এখন থেকেই সুদের হার বেশি দিতে হবে, এটা কোনও কথা নয়।

অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মো. মেজবাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

পরে অবশ্য এর কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ঘোষণা আসবে ২০১৮ সালে। তারপরও তিন বছর আমরা সুযোগ-সুবিধা পাব। তাই, ২০২১ সালের আগে মধ্যমআয়ের দেশ হয়ে যাব, এটা সত্যি। কিন্তু তা এখনই বলে সুদ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না।

শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে কলেজ সরকারিকরণ করা হলেই, শিক্ষকরা ঢাকায় আসতে চান। অনেকেই ঘরে বসে বসে বেতন নেন, কাজ করেন না। স্থাস্থ্য খাতেও সমস্যা আছে জানিয়ে মুহিত বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষের ভিড় হয়, সেখানে রোগীদের বসার জায়গা থাকে না। থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় অনেক বড় ভবন আছে কিন্তু সেখানে রোগীরা যেতে চান না। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে খতিয়ে দেখতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি বদলে গেছে। বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন হয়েছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে অগ্রগতি অনেক। তিনি বলেন, আমেরিকা ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আমাদের ডিউটি ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে চীন ও জাপান অনেক পণ্যে সুবিধা দিচ্ছে। আমেরিকা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে যে টিপিপি চুক্তি করেছে, এতে বাংলাদেশের কোনও সমস্যা হবে না।

বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের আপত্তি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণ করায় এসব কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি কলেজগুলো জাতীয়করণের ফলে প্রায় ৫০ ভাগ শিক্ষক ঢাকায় চলে আসেন। তারা বসে বসে বেতন নেন। আমি এ বিষয়টা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।

/এসআই/ এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।