সকাল ০৯:৪৭ ; শুক্রবার ;  ১৯ জুলাই, ২০১৯  

‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে বিভাজনের ফাঁদে অনেকেই পা দিয়েছি’

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে বিভাজনের ফাঁদে আমরা অনেকেই পা দিয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের পর যুদ্ধাপরাধীদের দেশে পুনর্বাসন করেছেন জিয়াউর রহমান ও এরশাদ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের শক্তির বিভাজন বাংলাদেশে ছিল না। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এ বিভাজনটা ইচ্ছা করেই করা হয়েছে। অনেকেই আমরা এ ফাঁদে পা দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা চাই সব মুক্তিযোদ্ধা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। দেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আরও প্রয়োজন। আমরা মাত্র শুরু করেছি। আমাদের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সামনে অঙ্গীকার করেছিলাম ক্ষমতায় এলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে একের পর এক মামলা করা হয়েছে, সেই মামলার তদন্ত হয়েছে, বিচার হয়েছে এবং অনেকের রায়ও কার্যকর করা হয়েছে। এটা আমাদের পরম পাওনা। এতে লক্ষ মা-বোন যারা সম্ভ্রম হারিয়েছে এবং শহীদ হয়েছে তাদের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, জার্মানিতে হিটলার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে লাখ লাখ লোক হত্যা করেছিল। যুদ্ধে তাদেরকে পরাজিত করা হয়। কিন্তু এখনও জার্মানিতে হিটলার ও নাৎসীদের নাম নেয় না। আমারও পাকিস্তানিদের যুদ্ধে পরাজিত করেছি।

তিনি বলেন, আজ সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু সেখানে আমরা দেখছি বিভাজন। কারণ আমাদের মূল চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ। মূল নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধু। এ মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মানুষের চেতনায় অন্তর্নিহিত করতে চায় তাদের কোনও স্থান নেই।

জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, এ দিনটি(১ ডিসেম্বর) আপনারা মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালন করেন। আপনারা (মুক্তিযোদ্ধারা) দিবসটির সরকারি স্বীকৃতির চেষ্টা করেছেন। আমরাও আপনাদের সঙ্গে একমত। সরকারি স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা আমরা করব, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। এটা সব মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায্য দাবি। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ না থাকার কারণে এখনও তা হচ্ছে না। কিন্তু আমরা ও মুক্তিযুদ্ধ কমান্ড কাউন্সিল যদি একটু সিরিয়াস হই তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয় যে আমরা এ দিনটি সরকারিভাবে পালন করতে পারব।

মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে.কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম, সংগঠনের মহাসচিব ইসমত কাদের গামা, মহাসচিব (প্রশাসন) এমদাদ হোসেন মতিন, মহাসচিব (কল্যাণ) আলাউদ্দিন, মহাসচিব (অর্থ) শাহ আলম প্রমুখ।

/পিএইচসি/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।