রাত ১২:২৫ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

শিশু-কিশোরদের এইচআইভি ঝুঁকি বাড়ছে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

জাকিয়া আহমেদ।।

সরকারি হিসাবে চলতি বছর বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্তের মধ্যে ০-৫ বছর বয়সী ১৩ জন, ৬-৯ বছর বয়সী ৪ জন, ১০-১৮ বছর বয়সী ৮জন, ১৯-২৪ বছর বয়সী ৩৬ জন, ২৫-৪৯ বছর বয়সী ৩৫৮ জন এবং ৫০ বছর বয়সের বেশি আছে ৫০ জন।

সারা বিশ্বে এখন এইডস আক্রান্ত ৩ কোটি ৬৯ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ২০ লাখ ৬০ হাজারই শিশু। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ২০১৪ সালেই মৃতের সংখ্যা ১২ লাখ। ২০১৫ সালে এইচআইভিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ। আর প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ৬০০ জন নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছে। 

অপরদিকে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ জন, ৬-৯ বছর বয়সী ৩ জন আক্রান্ত হয়েছিল। যা কিনা মোট আক্রান্তের ৪ শতাংশ। ২০১৪ সালে শূন্য থেকে ৫ বছরের ১৫ জন, ৬-৯ বছরের ৮ জন শিশু এবং ১০-১৫ বছরের বয়সের ৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়। 

২০১৫ সালে বাংলাদেশে এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬৯ জন, মারা গেছেন ৯৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৩৪৪, নারী ১১৭ জন এবং ট্রান্সজেন্ডার (লিঙ্গান্তরকারী) ৮ জন।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে এইডস রোগী সনাক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১৪৩ এবং মৃতের সংখ্যা ৬৫৮। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রতি এক জরিপে জানা গেছে এসব তথ্য।

শিশু কিশোররা এইডসে আক্রান্ত হচ্ছে- এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মো. নাসিম বলেছেন, এইডস মোকাবেলায় গণমাধ্যম ও অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তারা অবৈধ কিছু করতে না পারে। একইসঙ্গে এইডস রোগীদের প্রতি ভালবাসা, সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধ করবো, কিন্তু রোগীকে অস্পৃশ্য করা যাবে না। তাদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

এসটিডি কন্ট্রোল প্রোগ্রামের ডাইরেক্টর ও লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. শফিকুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হাত এখনও অনেক কম। তবে বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভৌগলিক অবস্থান, দরিদ্রতা, ঘনবসতির পাশাপাশি অসচেতনতার কারণে আমাদের দেশ এইডস-এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। জনবহুল এই দেশে এইডস-এর প্রাদুর্ভাব ঘটলে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কষ্টসাধ্য হবে। আর আমাদের দেশে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার সবগুলো কারণ বিদ্যমান রয়েছে। সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণের বর্তমান হার ধরে রাখা সম্ভব নয়।

একইসঙ্গে নতুন সংক্রমিতদের মধ্যে একটি বড় অংশই অভিবাসী জনগোষ্ঠী বলে গবেষণায় দেখা গেছে বলে জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ইউএনএআইডিএস-এর তথ্য মতে, ২০১৪ সালে নতুন সংক্রমিত ৩০ শতাংশ নারী এবং অভিবাসীদের স্ত্রী। এ ছাড়াও, দেশের অভ্যন্তরে দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ুর পরিবর্তন, নদী ভাঙন, নতুন কাজ এবং শিক্ষার সুযোগ এসব কারণে অভ্যন্তরীণ মাইগ্রেশনের হার বেড়ে গেছে। এ বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে এসটিডি প্রোগ্রাম পরবর্তীতে অভিবাসীদের জন্য নতুন প্যাকেজ ডিজাইন করছে।

অপরদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা পরিচালক দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, অভিবাসী, ভ্রাম্যমাণ যৌনকর্মী, মাদকসেবী ও সমকামীরা এইডস ঝুঁকিতে রয়েছেন বেশি।

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।