সন্ধ্যা ০৬:৩৩ ; রবিবার ;  ১৯ মে, ২০১৯  

কমেছে গরু পাচার, বেড়েছে সীমান্ত হত্যা!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক।।

বিএসএফকে দেওয়া ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর  নির্দেশনার পর গত সাত মাসে বাংলাদেশে ৭০ শতাংশ গরু চোরাচালান কমে গেছে বলে মঙ্গলবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে দাবি করা হয়েছে। তবে এর বিপরীতে সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে গরু চোরাচালানে জড়িতদের নিহতের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। ঘটনার প্রভাবে বাংলাদেশে বেড়ে গেছে গরুর মাংসের দাম। হুমকির মুখে পড়েছে ভারতের হাজার হাজার কোটি রূপির মাংস ব্যবসা।

গত বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গরু পাচার বন্ধে বিএসএফকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এরপর থেকে সীমান্তে বাড়তে থাকে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, গত ১৬-১৭ নভেম্বর ঢাকায় স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার সময় গরু পাচার ও সীমান্তে হত্যার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ওই কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, বিএসএফ-এর কড়াকড়িতে বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ১২০০০ কোটি রুপির মাংস ব্যবসায় ধস নেমেছে।

প্রসঙ্গত ২০১১ সালে বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পাচারকারী ও অবৈধপথে সীমান্ত পার হওয়া মানুষদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার না করার চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ চুক্তির ফলে গত কয়েক বছর ধরে সীমান্তে নিহতের ঘটনা কমে আসে।

তবে গত বছর এপ্রিলে সীমান্ত সফরকালে রাজনাথ সিং দাবি করেছিলেন গরু চোলাচালান ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনবেন।  এ ঘোষণার পর চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বিএসএফ-এর গুলিতে ২৪ জন গরুপাচারকারী নিহত হয়েছেন । গত বছর সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ১০ বাংলাদেশি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গরুপাচারকারীদের বিষয়ে বার বার ‘আরও নমনীয়’ এবং সম্ভব হলে হত্যাকাণ্ড এড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে বিএসএফ সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, গরু আটকের চাইতে পাচারকারীদের প্রতি বিএসএফের আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণেই পাচার কমে এসেছে। দুই হাজার রুপির বিনিময়ে পাচারকারীরা সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার করে। এ অল্প টাকার জন্য এখন অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিতে চায় না।

বিএসএফ কর্মকর্তারা দাবি করেন, ২০১১ সালে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার না করার চুক্তির ফলে নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর পাচারকারীদের হামলা বেড়ে যায়। আর বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, ‘পাচারকারীরা ভেবেছিল আমরা বন্দুক ব্যবহার করব না। কিন্তু জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনে গুলি করতে বিএসএফের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া আছে।’ 

গত শুক্রবার বিএসএফের মহাপরিচালক ডিকে পাঠক জানান, সীমান্ত থেকে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে গুরু পাচার ৭০ শতাংশ কমেছে। এ বছরের শেষের দিকে চোরাচালান ৪০-৫০ শতাংশ কমে যাবে বলে তার ধারণা।

বিএসএফ-এর দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৩ সালে ২২ লাখ গরু বাংলাদেশে পাচার হয়। ২০১৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৮ লাখ। আর চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত পাচার হওয়ার গরুর সংখ্যা দাঁড়ায় সাড়ে চার লাখ। বাংলাদেশে পাচার হওয়া গরু থেকে আহরিত রাজস্বের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে বলে বিএসএফ সূত্র জানিয়েছে।

/এএ/বিএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।