সন্ধ্যা ০৭:০৫ ; রবিবার ;  ১৯ মে, ২০১৯  

ভারতে গুপ্তচরবৃত্তি করছেন পাকিস্তানি দূতাবাস কর্মী!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক।।

পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে সেদেশের একজন দূতাবাসকর্মী ভারতে গুপ্তচরবৃত্তি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেফতার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হেড কনস্টেবল আব্দুল রশীদ এবং তার আত্মীয় কাফাউতুল্লার জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ করা হয়। তবে দূতাবাসের ওই কর্মীর নাম ও পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রবিবার কলকাতায় আইএসআই-এর চর সন্দেহে তিনজন গ্রেফতার হওয়ার দিনেই দিল্লি পুলিশও গুপ্তচর সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করেছিল। দুজনেই জম্মু-কাশ্মিরের রাজৌরির বাসিন্দা। এদের মধ্যে আব্দুল রশীদ নামে একজন খোদ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী। ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছেন, রশিদের সঙ্গে আইএসআইয়ের যোগাযোগ করিয়ে দেয় তারই আত্মীয় কাফায়তুল্লাহ খান।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কাফাউতুল্লা জানান, দুই বছর আগে পাকিস্তানে গিয়ে তিনি আইএসআই-এর সংস্পর্শে আসেন। সম্প্রতি ফের তাকে পাকিস্তান যেতে বলা হয়েছিল। সেখানে চরচক্র তৈরি করতে আরও সাহায্য করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয় তাকে। পাকিস্তানের ভিসা যোগাড় করতে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মী তাকে সাহায্য করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) রবীন্দ্র যাদব বলেন, ‘কাফাউতুল্লার দাবি, ওই কর্মীর পরিচয় তিনি জানেন না। তাকে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ে হাইকমিশনে পৌঁছলে ওই কর্মী বাইরে এসে তার সঙ্গে দেখা করবে।’

পুলিশ এখনও কাফাউতুল্লার পাশাপাশি রশিদকে আরও জেরা করে পাকিস্তান দূতাবাসের ওই কর্মীর পরিচয় জানার চেষ্টা করছে।

যুগ্ম-কমিশনার রবীন্দ্র যাদব বলেন, ‘জেরায় আরও তথ্য মিললে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হবে। যাতে পাকিস্তান দূতাবাসের ওই কর্মীকে জেরা করা যায়।’

পুলিশের সন্দেহ, রশিদ বিএসএফ এর বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য আইএসআই-এর হাতে তুলে দিয়েছিল। ওইসব তথ্যের মাধ্যমেই জম্মুর উধমপুরে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে ভারতীয় গোয়েন্দারা।

এদিকে ভারতীয় পুলিশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, গ্রেফতারের পর কাফাউতুল্লাকে পাকিস্তান দূতাবাসে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল গোয়েন্দারা, যেন ফাঁদ পেতে দূতাবাসের ওই কর্মীকে গ্রেফতার করা যায়। তবে রবিবার সংবাদমাধ্যমে দুজনের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়।

/এসএম/বিএ/

/আপ-এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।