রাত ০৫:৩১ ; মঙ্গলবার ;  ১৯ নভেম্বর, ২০১৯  

চিলাহাটি দিয়ে শেষ দফায় ভারতে গেলেন ২৬ জন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নীলফামারী প্রতিনিধি।।

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল থেকে পঞ্চম ও শেষ দফায় ১০টি পরিবারের ২৬ জন সদস্য ভারত চলে গেছেন। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্ত দিয়ে সোমবার নতুন ঠিকানার উদ্দেশে পা বাড়ান তারা।

বাংলাদেশকে বিদায় জানিয়ে ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী পঞ্চগড় জেলার বিলুপ্ত ৫টি ছিটমহলের ৯৩টি পরিবারের ৪৫২ জন সদস্য ইতোমধ্যে চার দফায় ভারতে গেছেন। মোট ৯৮টি পরিবারের ৪৮৭ জন বাসিন্দা ভারতে যাওয়ার কথা থাকলেও নবাগত চার শিশুসহ সদস্য বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯১ জনে। এর মধ্যে একটি পরিবারের পাঁচ জন সদস্য ভারতে যাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি তোলে।

সোমবার ভারত যাওয়ার কথা ছিল ১০টি পরিবারের ৩৪ জন বাসিন্দার। কিন্তু ৯ জন বাসিন্দা সময়মত ক্যাম্পে না আসায় তাদের ছাড়াই ২৬ জনকে ভারত পাঠায় জেলা প্রশাসন।

বিলুপ্ত দহলা খাগাবাড়ি কোট ভাজিনী ও বেলুয়াডাঙ্গা বিলুপ্ত ছিটমহলের ২৬ জন বাসিন্দা রবিবার দেবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ মাঠে জড়ো হয়ে সেখানেই রাত কাটান। সোমবার সকাল ১১ টায় তাদের সেখান থেকে বিজিবি ও পুলিশের পাহারায় একটি বাসে করে চিলাহাটি নিয়ে যাওয়া হয়। ২টি ট্রাকে করে নিয়ে আসা হয় তাদের মালামাল।

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের আব্দুর রউফ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের ইমিগ্রেশন কাজ সম্পন্ন করার পর বিকালে ডাঙ্গাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধির কাছে ২৬ জনকে হস্তান্তর করা হয়।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম আযম, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা,দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় ভারতের পক্ষে কোচবিহারের জেলা প্রশাসকের এডিএম আয়শা রানী, এসডিএম রঞ্জন ঝাঁ, বিএসএফের ৫৮ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডার একে ঝাঁ, কাস্টম সুপার সন্দীপ ব্যানার্জী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রমাকান্ত গুপ্ত তাদের বরণ করে নেন।

২২ নভেম্বর থেকে পঞ্চগড় জেলার বিলুপ্ত ছিটমহলের ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাসিন্দাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম দফায় ভারত যান ১৫টি পরিবারের ৪৮ জন, দ্বিতীয় দফায় ভারত যান ২৮টি পরিবারের ১৪৭ জন, তৃতীয় দফায় ভারত যান ৭২টি পরিবারের ৩৪৭ জন এবং চতুর্থ দফায় ভারত যান ২১টি পরিবারের ১০৫ জন বাসিন্দা।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম আযম বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের সেখানে পৌঁছাতে হবে। যাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও যারা ভারতে যাননি পরবর্তীতে নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

/আরএ/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।