ভোর ০৬:৪৭ ; শনিবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৭  

শিবলী মোকতাদির- এর কবিতা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

জাদুকর

অগ্নিবাহক ব’লে ক্ষমা করা যায়। 
    
আমাদের গৃহে রহস্যময় একগুচ্ছ জাদুকর
কেন শুধু ফসফরাস নিতে চায়?

বরাবর বৈদ্যুতিক। মুখরিত সব এনালগ ডিজিটালে—
বলে, বংশে তাদের কেহ কোনদিন হাতি চড়ে নাই;
                               কোন বিশেষ মুহূর্তে।
আহা! এত যে ব্যক্তি ও বালিকা 
দূরে কিন্তু ঝিলিক মারছে— একতালি, দুইতালি, আড়াইতালি
                                            বাদলের ছোটভাই।


বোন ও বনের গল্প

আর গণিতের দিনে এলে অবকাশে; 
এলে ছাত্রদল ঘুরে ঘুরে
মায়াবী মেঘের মাঝে মাঝে মাতাল ময়ূর মনে পড়ে, পড়েছিল...
কত বস্তু আর সংকেতে বাঁধা এই দেহ
তারে আজ কোন ভূতে ধরিল গাছের
বিধবা বোনের মত।
কোন বাঁকে, প্রবাহিত কোন চক্রে;
মোমের লজ্জায় ফেলে দিলো?

সমতলে একদা প্রেমের সরোবরে
বৃষ্টি আর ব্যাকরণভেদী এই গাছ;
সমবেত ছায়ার আঘাতে, জ্বলে ওঠা সবুজের এলোমেলো।

সেই থেকে কাল মহাকাল সন্দেহ করিনু তারে
সেথা কোন লোভে যাও বারে বারে?
সে তো আপেলের নয়, রসালো ফুলের কোন বনে
যেতে চাও অবিরাম— এত-যে পতন রুখে;
আয়োজনে বিদেশী গাছের ডালে-ডালে...

খুনির স্বরূপে এই বন, ওগো গাছ— তরলে তরলে 
শ্রেণিহীন সরলের, বলে দাও—
কোন ভূতে ধরিলো গাছের হারানো বোনের তরে? 


জেব্রা

নিষ্ঠুর হাওয়ার মাঝে ফিরে এলে ফের; 
জেব্রা দিবসের ডাকে
এলে আলপনা এঁকে এঁকে আকন্দ বনের পাশে।
আর আমাদের লাজুক নাবিক
কৃষ্ণ-ধূসর গায়ে;
এলো নুনের অহমিকায়, দ্রাঘিমাংশের নিয়তি নিয়ে পায়ে।

অথচ ব্রিজের বাতাসে তুমি এলোমেলো
উপহারে  ব্রোঞ্জের বারতায়
নিয়েছো রসায়ন ঘনত্ব ভালোবেসে চোখের কালিতে তাকে
তবু ক্রন্দনে আবির্ভূত হলে আজ, অতিথির গুঞ্জনে

এত যে মৃগমাংসের আনাগোনা 
কে দেবে পরিত্রাণ বলো আজ নৈশ কোলাহলে?


চিহ্নমেলা : প্রথম দিন

ও-মধু আমি তোমারই পুষ্প রূপে
ফুটেছি অনাথ কৃত্রিম বাগিচায়
সূত্র যদি-না গমনযোগ্য হলে;
কৃষ্ণের দোষ রাধাকেই বরতায়।

আসো দলে দলে, পথিক ও পণ্ডিত
গুচ্ছে-গুচ্ছে সখির হন্তারক
সখার স্বরূপে খোঁপার ব্যাখ্যা দিতে
ভুল করে করো তিনশো সাতাশে নক।

আমার গর্ভে আমি-যে লালিত হই
পান ক’রে ভিন দুগ্ধ-বাহিত ছানা
গৃহের মাঝে চূড়ান্ত গর্ভকোষ
কেশরের টানে ভ্রমরের আনাগোনা।

চন্দ্র তখন ধনুকের ন্যায় বেঁকে
জোছনা-দগ্ধ কবির বিশ্লেষণে
গুড়ো-গুড়ো রূপ পশ্চিমে যায় নিভে
চৈত্রবাতাসে বসন্তে সেই ক্ষণে।

ছাগের অঙ্গে বাঘের ছলনা নিয়ে
তোমরা ঘুমাও আলেখ্য সংগীতে
ছেদের ছন্দে আমাকে আস্ত রেখে
চুম্বনে দাও লাল-সবুজের ফিতে।

সমবেত মৌ বিজ্ঞাপনের দ্বারে
বাঁধো-যে আমায় বিনিময় প্রথা ভুলে
জ্বালা ও মালার দংশিত এই দেহে
আজ প্রভাতে প্রথমেই প্রাণ খুলে। 


রুক্ষ

মরুভূমির বালুর উপরে তপ্ত সৈন্যদল এসেছে প্রচুর 
তাদের বিচিত্র গার্ড ও গর্জনে
অহেতুক ভ্রমণ ঋতুতে কাহিনী-কথন পুড়ে যায়
দূরে চিত্রে চিত্রে প্রভুর মৃত্যুতে অশ্ব নিরুপায়।  

তবু তৃষ্ণা ও ক্লান্তির আবরণ ভেঙে খনন চলছে অকারণে 
পাথুরে খাদের চারপাশে, চলছে সন্ধান।

দূরে, কৃষি খামারের কর্মী ও কোলাহল নিভে যায় ধীরে ধীরে 
যথা পড়ন্ত প্রহরে...
চলে গোপনীয়তা, চলে আগত বিদ্যার আনাগোনা, 
রাত্রির বাতাসে জেগে থাকে, শুধু  
এলোমেলো ক্যাকটাসে— ঝুলন্ত নীল জামা।   

 

 

অলংকরণ : সঞ্জয় দে রিপন

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।