রাত ১২:৫৩ ; রবিবার ;  ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯  

‘বিশেষ পরিদর্শনের’ শীর্ষে অগ্রণী, ফার্মাস ও ইউসিবিএল

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২৭ বার ‘বিশেষ পরিদর্শন’ পরিচালনা করে। এতে বেরিয়ে এসেছে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা। এ সময়ে অগ্রণী ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১৪ বার বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়। এরপরই বিশেষ পরিদর্শন করা হয় ফার্মাস ব্যাংকে ৯ বার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে ৭ বার। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রমের ওপর প্রণীত বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক একেএম আমজাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে গ্রাহক স্বার্থ কেন্দ্রের সুবিধাভোগী গ্রাহক মাহবুব আর রহমান ও মইনুল ইসলাম খসরু তাদের সঙ্গে ব্যাংকের প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, যারা আমাদের গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করবে তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রাহককে হয়রানি ও ঝামেলামুক্ত সেবা প্রদান ব্যাংকিং খাতের একটি অঙ্গীকার হওয়া উচিত। আর এই অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বদ্ধপরিকর।

এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলোর গ্রাহক স্বার্থ কেন্দ্র কাজ করছে কি না, তা যাচাইয়ে আমরা পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করছি। ব্যাংকগুলোর গ্রাহক স্বার্থ কেন্দ্রের কার্যক্রম ক্যামেলস রেটিংয়ে প্রতিফলিত হবে।

আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ব্যাংকে গোপন ফি আদায় একটা অপরাধ। যারা এভাবে ফি আদায় করবেন,  তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরিমানার বিধান করতে পারে। আমাদের প্রায় সব ব্যাংকের সেবা পণ্যের ধরন কাছাকাছি। তবে আমাদের ব্যবহার ও সেবার মান দিয়েই গ্রাহক ধরতে হয়। তাই গ্রাহ স্বার্থের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ সময়ে সোনালী ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন করা হয়েছে ৬ বার, এনসিসি ব্যাংকে ৫ বার, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে ৫ বার ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৫ বার।

এসময়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২৫৬ টি, ব্র্যাক ব্যাংকের ১৭৫ টি, রূপালী ব্যাংকের ১৪৯ টি, অগ্রণী ব্যাংকের ১৪০ টি, ইসলামী ব্যাংকের ১২৩ টি, জনতা ব্যাংকের ১০৬ টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৮২টি, স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের ৭৯টি, ডাচ বাংলার ৭০ টি ও ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫৯ টি।

অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, ব্যাংকের গ্রাহক সেবার বিষয়টি সারাবিশ্বেই একটি অগ্রগণ্য বিষয়রূপে পরিগণিত হচ্ছে। দেশের আর্থিক খাতের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাই একটি স্থিতিশীল আর্থিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর গ্রাহক ভিত্তি অনেকগুণ বেড়েছে। এই ক্রমবর্ধমান গ্রাহকের বাড়তি চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণ এবং আরও গ্রাহক আকর্ষণের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবার মানোন্নয়নের কোনও বিকল্প নেই। 

/এসআই/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।