রাত ০৪:১৪ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

সোলার হ্যাজাকে আলোকিত পদ্মার চর

প্রকাশিত:

তানজিল হাসান, মুন্সীগঞ্জ ॥

ভালোই হলো, এখন একটু আরামে পড়ালেখা করতে পারুম। একটু রাইত জেগেও পড়ালেখা করা যাবে। আমাদের বাড়িতে কারেন্ট (বিদ্যুৎ) নাই। কুপির আলোতে পড়তে ভালো লাগে না। পোকা-মাকড়ে জ্বালায়। হ্যাজাক লাইটের আলো পেলে পড়ায় মন বসবে। বিনামূল্যে সোলার হ্যাজাক লাইট পাওয়ার পর এভাবেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ করল লৌহজং উপজেলার কুমারভোগের ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা আক্তার।

১৯৯৪ সাল থেকে টানা কয়েক বছর পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যায় ৩৩টিরও বেশি গ্রাম। প্রাচীন এই জনপদটি (লৌহজং উপজেলা) প্রায় এক তৃতীয়াংশ চলে যায় পদ্মার গর্ভে। পরবর্তী কয়েক বছরে পদ্মার বুকে জেগে ওঠে বিশাল বিশাল চর। এসব চরে জনবসতিও হয়েছে। দুর্গম এই চরে এখনও বিদ্যুতের আলো পৌঁছাতে পারেনি সরকার।

চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা চিন্তা করে সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি তার বিশেষ বরাদ্দ থেকে চরের এক হাজার পরিবারসহ ১০টি ইউনিয়নের দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে সোলার হ্যাজাক লাইট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

শনিবার পদ্মার চরের দেড় হাজার পরিবারের মাঝে সোলার হ্যাজাক লাইট বিতরণ করা হয়। তাহমিনার মতো উপজেলার কনকসার ইউনিয়নের ঝাউটিয়ার চরের দানেশ মোল্লা, লৌহজং-টেউটিয়া ইউনিয়নের রাউৎগাঁয়ের আব্দুল আজিজ, শিমুলিয়ার রওশন আরা, চরভোগদিয়ার মুক্তা বেগমের অনেকে সোলার হ্যাজাক লাইট পেয়েছে। এই লাইট পেয়ে চরের লোকজন মহাখুশি।

এখন থেকে হ্যাজাকের আলো জ্বলবে লৌহজংয়ের বিস্তীর্ণ পদ্মার চরের ঘরে ঘরে। এতে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র এবং অনগ্রসর পরিবারের চিত্র কিছুটা হলেও পাল্টে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এসব লাইট শিশুদের পড়ালেখার অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।

উদ্যোগ সম্পর্কে এমপি এমিলি বলেন, অনগ্রসর মানুষের উন্নয়ন এখন জরুরি। বর্তমান সরকার গোটা জাতির উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই বিদ্যুতহীন বিশাল চর এলাকায় এই সোলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চরের লোকজন দেশ ও জনগণের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিস্তীর্ণ জমিতে ধানসহ নানা জাতের ফসল ফলিয়ে দেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা মেটাতে চরের লোকেরা ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক সমস্যাসহ নানা কারণে বিদ্যুতের আলো চরাঞ্চলে পৌঁছায় না। তাই তাদের জন্য হ্যাজাকের ওই স্বচ্ছ আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে চরের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় গতি বাড়বে। তারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভবিষ্যতে দেশের জন্যও অবদান রাখতে পারবে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান বলেন, উদ্যোগটি শুভ। চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কথা বিবেচনা করেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার বিশেষ বরাদ্দে সোলার হ্যাজাক লাইট বিতরণ প্রশংসার দাবি রাখে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেন, অনগ্রসর মানুষের জন্য এই সোলার হ্যাজাক অনেক বেশি উপকারে আসবে। এতে জীবন মানে পরিবর্তন ঘটবে, রাতের আধার কাটিয়ে বিস্তীর্ণ এই চরে জ্ঞান চর্চা বাড়বে।

/এসটি/ এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।