রাত ০৯:৪৯ ; রবিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৯  

২০ টাকার বিদ্যুতের লাইন নিতে হাজার টাকা খরচ!

প্রকাশিত:

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

ঝালকাঠির রাজাপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে স্থানীয় নেতারা অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে এলাকা ভাগ করে সরকারি দল ও বিএনপির নেতারা এক হয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

নিয়মানুযায়ী মাত্র ২০ টাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার কথা। সেখানে একটি সংযোগের জন্য হাজার হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে দালালচক্র। তারপরও পাওয়া যাচ্ছে না বিদ্যুৎ।

রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড়, কাঠিপাড়া ও জগাইরহাট গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় নতুন লাইন টানা হচ্ছে। আর এই সুযোগে গ্রামের সাধারণ লোকজনকে ভুল বুঝিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ানসহ দালাল চক্র গ্রাহকদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে সংযোগ পেতে কোনও অর্থ না দেওয়ার জন্য জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালালেও কাজ হচ্ছে না।

সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে শুক্তাগড় গ্রামের সাবেক যুবদল নেতা মোহাম্মদ হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির এই সাবেক ওয়ার্ড নেতা গ্রামের একাংশের সংযোগ প্রত্যাশী ৪২জন গ্রাহকের প্রত্যেকের কাছ থেকে থেকে ৪ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন। এভাবে তিনি প্রায় ১লাখ  ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বেশিরভাগ টাকা তিনি নিয়েছেন তার এক দুঃসম্পর্কীয় চাচা বেলায়েত হোসেন মিয়া ও চাচাতো ভগ্নিপতি দুলালের মাধ্যমে।

শুক্তাগড়ের দুলাল উদ্দিন জানান, তিনি সংযোগের জন্য তিন দফায় ৩৮ হাজার টাকা দিয়েছেন হারুন মিয়াকে। বিদ্যুৎ সংযোগের অপেক্ষায় থাকা একই গ্রামের আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাকা দেওয়ার পরও আবার টাকা চাইছেন হারুন মিয়া, বেলায়েত মিয়া ও বাদশা মেম্বার।

একই অবস্থা উপজেলার জগইরহাট গ্রামের। গ্রামটিতে নতুন লাইন দেওয়া হবে বলে একই পদ্ধতিতে টাকা তুলে দেওয়া হয় কাওসারকে। কিন্তু আজও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়নি।

বিষয়টি জানতে চাইলে হারুন মিয়া বলেন, ‘রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান কাওসারের কাছে চুক্তি অনুযায়ী সব টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

কাওসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি হারুন মিয়ার কাছ থেকে মাত্র ৫৯ হাজার টাকা নিয়ে অফিসে দিয়েছি । আমাকে হারুন পুরো দেড় লাখ টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যাবে না।’

শুক্রবার সকালে রাজাপুর থানার সামনে শুক্তাগড়ের ভুক্তভোগী ৩৫/৪০জন নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াসের সঙ্গে দেখা করে হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ তুলে ধরেন।

ওসি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনারা আদালত কিংবা দুর্নীতি দমন অফিসে মামলা করতে পারবেন। কিন্তু থানায় নয়। আমরা শুধু আপনাদের কাছ থেকে একটি জিডি নিতে পারব।’

ঝালকাঠি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন জানান, ‘যেখানে সরকারিভাবে নতুন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে, সেসব এলাকায় সব ফ্রি। ওই সব এলাকার গ্রাহকরা শুধু ২০ টাকা দিয়ে ফরম নিয়ে তা জমা দেবেন। তাই এ ধরনের অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। আমাদের কোনও লোক এর সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

/এআর/এসটি/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।