দুপুর ০১:২৯ ; মঙ্গলবার ;  ১৯ নভেম্বর, ২০১৯  

নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী গণহত্যা দিবস আজ

প্রকাশিত:

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।।

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে একাত্তরের ২৯ নভেম্বর দিনটি ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বেদনার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার দুর্গম চরাঞ্চল বুড়িগঙ্গা নদীবেষ্টিত বক্তাবলীতে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতা যুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একসঙ্গে এত প্রাণহানীর ঘটনা দ্বিতীয়টি আর নেই। তাই স্বজন হারানোর ব্যাথা ও কষ্ট নিয়েও শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতিবছরই পালিত হয় বক্তাবলী গণহত্যা দিবস।

এদিকে স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দেওয়া হয়নি। গত বছর অনুষ্ঠানে এক বছরের মধ্যে এ ১৩৯ জনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিলেও সেটা কার্যত বাস্তবায়ন হয়নি।

ওই সময়ে ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা তমিজউদ্দিন রিজভী জানান, তারা মুজিব বাহিনীর অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ শেষ করে বক্তাবলী ও এর আশপাশ গ্রামে অবস্থান নেন। ওই সময়ে বক্তাবলী গ্রামে এক থেকে দেড়শ মুক্তিযোদ্ধা ছিল। নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় এলাকাটিকে নিরাপদ মনে করতেন মুক্তিযোদ্ধারা। ওই এলাকাতে তখন কমান্ডার ছিলেন সিরাজুল ইসলাম (প্রয়াত)। এছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম, বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলার আজহার হোসেন, আবদুর রব, মাহফুজুর রহমান, স ম নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে তখন বক্তাবলীতে অবস্থান করতেন।

রিজভী স্মৃতিচারণ করে জানান, ঘটনার দিন ২৯ নভেম্বর সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল পুরো এলাকা। ভোরের দিকে হঠাৎ করেই পাক বাহিনী গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। অপ্রস্তুত মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা জবাব দেয়। উভয় পক্ষের মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ব্যাটালিয়ন বক্তাবলীতে এসে এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিলে তাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। পরে তারা একত্রে পাক বাহিনীর সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা একটানা যুদ্ধ চালায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা মোক্তারকান্দি কবরস্থানের সামনে কয়েকজন রাজাকারকে ধরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের উপুর্যপরি আক্রমণের মুখে পাক হানাদাররা পিছু হঠতে শুরু করে। এ সময় তারা রাজাকার, আল বদর, শামস বাহিনীর পরামর্শে তারা ১৩৯ জন নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে ধরে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন, শাহিদ, ফারুক, অহিদ, মনির, শাহ আলম, রহমতউল্লাহ, শামসুল, আলম, সালামত, খন্দকার, সুফিয়া, আম্বিয়া, খোদেজা প্রমুখ।

রিজভী জানান, পিছু হটার সময় হানাদার বাহিনী পেট্রোল ও গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী পার সংলগ্ন বক্তাবলী পরগনার, রাজাপুর ডিগ্রীর চর, মুক্তাকান্দি, গঙ্গানগর, রাম নগর, গোপাল নগর, রাধানগরসহ অন্তত ২২টি গ্রাম।

নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী জানান, ২৯ নভেম্বর বক্তাবলীতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা একটানা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। পরে পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার সময়ে ১৩৯ জনকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।

নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান মোহাম্মদ আলী।

/এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।