রাত ০৫:২৪ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হবে ২০২৪ সালের পর

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্র্রিবিউন রিপোর্ট॥

জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বিষয়টির সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান নিম্নমধ্যম আয়ের বিষয়টিকে একত্রিত না করার পরামর্শ দিয়েছে বেরসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলো নিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা আঙ্কটাডের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সিপিডির পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনটি সূচকের (আই সূচক, মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক) ভিত্তিতে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের মানদণ্ড ইতিমধ্যে পূরণ করেছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে ন্যূনতম সূচকের মানদণ্ড পূরণ করতে পারলেই ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হবে বাংলাদেশ। এরপর ছয় বছর পর্যবেক্ষণে থেকে ২০২৪ সালে তা কার্যকর হবে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ এর মধ্যেই ইভিআই শর্তপূরণ করেছে এবং  মানব সম্পদ সূচকের শর্ত অর্জনের কাছাকাছি রয়েছে। মাথাপিছু আয় দেখানো হয়েছে ৯২৬ ডলার, যা একহাজার ২৪২ ডলারের প্রয়োজনীয় আয়সূচকের অনেক নিচে রয়েছে।

জাতিসংঘের ত্রিবার্ষিক এই প্রতিবেদনে আগের তিন বছরের মাথাপিছু আয়কে গড় করে দেখানো হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় একহাজার ১০০ ডলার হলেও আগের তিন বছরের গড় হিসেবে মাথাপিছু আয় ৯২৬ ডলার দেখানো হয়েছে।

২০১৮ সালে পরবর্তী প্রতিবেদনে ২০১৫, ২০১৬, ও ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হবে।

আঙ্কটাড প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় সিপিডির গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই (২০১৫) প্রতিবেদনে আমরা এর মধ্যেই একটি শর্ত পূরণ করেছি। মানবসম্পদ সূচকের শর্তও ২০১৮ সালের মধ্যে সহজেই পূরণ হবে।

মানবসম্পদ সূচক উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সিপিডি জানায়, স্বল্পোন্নত দেশের তিন সূচকের মধ্যে মানবসম্পদ সূচকেও বাংলাদেশ লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই লক্ষ্যটি পূরণ হলে ২০১৮ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে দেশটি। যদিও সেটি কার্যকর হবে ২০২৪ সালে।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের হিসেবে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয় আগামী ছয় বছরের মধ্যে চার গুণ বৃদ্ধি করতে হবে। কোনও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ছাড়া এই অর্জন সম্ভব নয়, বাস্তবভিত্তিকও নয়। আর সেটি সম্ভব না হলে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবেই থাকবে।

/এসআই/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।