ভোর ০৬:৫২ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

হাইকোর্টের নির্দেশের পর ৪ অ্যাসিড নিক্ষেপকারী আটক

প্রকাশিত:

চাঁদপুর প্রতিনিধি।।

চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার দারাশাহি তুলপাই গ্রামে গৃহবধূ নাজমা বেগমের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।  মঙ্গলবার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের আটকের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন  হাইকোর্ট। বুধবার তাদের চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, তুলপাই গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২৬),বাবুল (৩২), আলাউদ্দিন (৩৫) ও শাহীন (২৬)।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২ অক্টোবর রাত ১০টায় তুলপাই গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগমকে ৪/৫ জনের একটি দল অ্যাসিড ছুড়ে ঝলসে দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়।

৩ অক্টোবর নাজমা বেগমের স্বামী মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলা করেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর কচুয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই ৪ জনকে আটক করে।

এর আগে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা চেয়ে নাজমা বেগম ২২ নভেম্বর রিট আবেদন করেন। তাকে আইনগত সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতেও কচুয়া থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়। একই সঙ্গে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নাজমাকে হাসপাতালের অর্থে চিকিৎসা সেবা দিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেন আদালত।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। এখনও বলা যাচ্ছে না কারা ঘটিয়েছে। যেহেতু ভিকটটিম তাদের সন্দেহ করছে তাই আমরা তাদের গ্রেফতার করেছি।

/জেবি/এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।