রাত ০৪:১৪ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

ডিসেম্বরেও বাস্তবায়িত হচ্ছে না নতুন পে-স্কেল

প্রকাশিত:

শফিকুল ইসলাম।।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তবে, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হবে। সে কারণে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের বেতন নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী হবে। ওই বেতন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানুয়ারিতে পাবেন বলে নিশ্চিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ২৩ নভেম্বর সকালে সৌদি আরব সফরে গেছেন। তিনি দেশে না ফেরা পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোর গেজেটও প্রকাশিত  হচ্ছে না। আগামী ২৭ নভেম্বর শুক্রবার দেশে ফিরবেন অর্থমন্ত্রী। ২৮ নভেম্বর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ২৯ নভেম্বর রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী কথা বলার চেষ্টা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেতন কাঠামোর বিষয়ে কথা বলে তার অনুমোদন পেলে তা পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। তারপর গেজেট। কাজেই ডিসেম্বরে পাওয়া নভেম্বর মাসের বেতন পুরনো বেতন কাঠামো অনুযায়ীই হচ্ছে—তা প্রায় নিশ্চিত। 

সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাওয়া ডিসেম্বর মাসের বেতন নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী হলেও জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী গত ৬ মাসের এরিয়ার বিল তারা এক সঙ্গে পাচ্ছেন না। গত ৬ মাসের এরিয়ার বিল কিভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।

সূত্রমতে, দেশে মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৬ মাসের এরিয়ার বিল ২ অথবা ৩ কিস্তিতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ কাজ করছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র সহকারী সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এতে আসলে লাভের চেয়ে লোকসান হলো বেশি। হয়তো জানুয়ারিতে সেই বাড়তি বেতন পাব। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হলো না। মনে করেছিলাম ৬ মাসের এরিয়ার বিল একসঙ্গে পেলে হয়তো তা দিয়ে কিছু একটা করতে পারব। কিন্তু তা যদি ভেঙে ২ অথবা তিন কিস্তিতে দেওয়া হয়, তা ভেঙে খাওয়া ছাড়া আর কী করা যাবে?

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এভাবে পুরো বছর লাগিয়ে একটি বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নজির আমার জানা নেই। পাঁচবছর পর একটি নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন পাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার। কিন্তু সরকারের কেউ-কেউ এই অধিকার হরণ করছেন। এরাই সরকারের বদনাম করছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এভাবে ২ বা ৩ কিস্তিতে গত ৬ মাসের এরিয়ার বিল না দিয়ে একবারে দিলে আমাদের উপকার হতো। আমরা টাকাটা একটা বিশেষ কাজে লাগাতে পারতাম। সে ক্ষেত্রে তিনি একটি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ৬ মাসের এরিয়ার বিল ২ কিস্তিতেই দেওয়া হোক। সেক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বিল একবার এবং কর্মচারীদের বিল আরেকবার। এ পদ্ধতিটি কিন্তু দু কিস্তিই হলো। সে সেক্ষেত্রে আগে কর্মচারীদের বিল পরিশোধ করা হোক। পরে কমকর্তাদের বিল দেওয়া হোক। তবে এসব কিছুই নির্ধারিত হবে অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে।

উল্লেখ্য, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা আগেই জানিয়েছিলেন, অষ্টম বেতন কাঠামোর আদেশ জারির বিষয়ে অর্থ বিভাগ কাজ করছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতন পাবেন ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অর্থবছরে নতুন স্কেলে শুধু মূল বেতন পাবেন। এ বর্ধিত বেতনের অর্থ সংস্থান করতে চলতি বছরে সরকারকে ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। তবে আগামী বছর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন স্কেলে বেতন ও ভাতা পাবেন। এ জন্য সরকারকে ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে।

এদিকে, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ২১ লাখ চাকরিজীবীর বেতন বাড়ছে। এমন খবরে ইতোমধ্যেই দ্রব্যমূল্য বাড়তে শুরু করেছে। মানুষের চাহিদারও পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে। কেননা সরকারের প্রায় ২১ লাখ চাকরিজীবীর বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে শাক-সবজি, মাছ, মাংসসহ অন্য সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাসাভাড়া বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছেন বাড়ির মালিকরা।

অন্যদিকে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার দাবিতে। তবে এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পে-স্কেল বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল অনুসারে ডিসেম্বর থেকে বেতন পেলে ৫ মাসের বর্ধিত বেতন একসঙ্গে দিতে হবে। ফলে ডিসেম্বরে সরকারকে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৬২৬ কোটি ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৬ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এ জন্য বাড়তি চাপ পড়ার কথা নয়। কারণ সরকার তো আগে থেকেই অর্থের বরাদ্দ রেখেছে। নতুন কিছু যোগ হচ্ছে না। শুধু আদেশ জারির কারণে দেরি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশন গত ডিসেম্বরে যে প্রতিবেদন দাখিল করে তাতে ১৬টি গ্রেডে বেতন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে পাঁচ সদস্যের সচিব কমিটির সুপারিশে আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে।

/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।