রাত ০৯:০১ ; রবিবার ;  ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯  

দ্বিতীয় দফায় ভারতে গেলেন ১৫৮ জন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।

কুড়িগ্রামে সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহলগুলো থেকে দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫৮ জন ভারতে চলে গেলেন। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) প্রায় ৩০টি পরিবারের এই ১৫৮ জন সদস্য নতুন ঠিকানার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছাড়েন।   

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভাণ্ডার সীমান্তের অস্থায়ী চেক পয়েন্ট দিয়ে দুপুর ১টা  থেকে ২টা পর্যন্ত ভারতের কোচবিহার জেলা প্রশাসনের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলার ১৫৭ জন ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার একজন ছিলেন।

এসব পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ এলাকা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সকাল ১০টায় ৫টি বাস ও ২৩টি পিকআপ ভ্যানে করে বাগভান্ডার অস্থায়ী চেক পয়েন্টে পৌঁছান। পরে বাগভান্ডার চেক পয়েন্টে দু’দেশের ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তাদের ট্রাভেলপাস পরীক্ষা-নিরিক্ষা করার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে তাদের শেষ বিদায় জানান ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন মাহমুদ ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভুইয়া। ভারতের পক্ষে তাদের বরণ করেন ভারতের কোচবিহারের ১০১ বিএসএফ কমান্ডার আখতার হোসেন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের সদস্য সচিব অভিজিত মিত্র।

ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে অনেকে খুশি হলেও জন্মভূমি, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশির মায়া ত্যাগ করে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই।

ভারতে চলে যাওয়ার মুহূর্তে দাশিয়ার ছড়া ছিটের বাসিন্দা শান্তি বালা (৮০) বলেন, শেষ বয়সে ছেলে-মেয়ে, নাতি-পুতির সঙ্গে ভারতে যাচ্ছি। স্বামীর চিতা ছেড়ে যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। ভারত গেলেও মন এই দেশেই প‌রি থাকপে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন মাহমুদ জানান, কুড়িগ্রামের অভ্যন্তরের বিলুপ্ত ছিটের ৩০৫ জন বাসিন্দা প্রথম অবস্থায় ভারতে যাওয়ার সীদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত দুই দফায় ভারতে গেলেন ২৩০ জন বাসিন্দা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১৯ নভেম্বর ভারতে যান ৭২ জন। বাকী ৭৫ জনের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ৭০ জন না যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে। চারজন এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে কোনও কাগজপত্র জমা দেননি। তবে বাকিরা চাইলে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে যেতে পারবেন।

ভারতীয় হাইকমিশন রাজশাহীর সদস্য সচিব অভিজিত মিত্র জানান, কুড়িগ্রাম থেকে দুই দফা ২৩০ জন সাবেক ছিটের বাসিন্দা ভারত গেছেন। ভারতের যাওয়া বাসিন্দাদের জন্য কোচবিহার জেলার দিনহাটায় নিবাসসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

/জেবি/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।