রাত ১১:২৯ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

একনেকে কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণসহ ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৯৭৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৭২৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ৫ হাজার ২৪৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ সব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো নদীর তলদেশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য টানেল নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল নির্মাণে ব্যায় হবে আট হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক দেবে ৪ হাজার ৭৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাকি ৩ হাজার ৬৪৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

‘কনস্ট্রাকশন অব মাল্টি লেন রোড টানেল আন্ডার দ্য রিভার কর্ণফুলী’ শীর্ষক এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীনের সাংহাইয়ের  আদলে চট্টগ্রামের ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ব্যবস্থা  গড়ে তোলা হবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে। এ ছাড়া, টানেলটি নির্মিত হলে কর্ণফুলী নদীর ওপরে বিদ্যমান দুটি সেতুতে যান চলাচলের চাপ কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকল্পটি চলতি নভেম্বরেই কাজ শুরু হবে। ২০২০ সালের জুন মাসে প্রকল্পটি শেষ হবে। টানেলটি চট্টগ্রাম শহরের বন্দর এলাকা ও আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করবে। অর্থাৎ টানেলের এক পাড়ে থাকবে বন্দর এলাকা, অন্য পাড়ে থাকবে আনোয়ারা উপজেলা।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ, চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) ও অভি অরুপ অ্যান্ড পার্টনারস হংকং লিমিটেড যৌথভাবে টানেল নির্মাণের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা করে। এরপর চলতি বছরের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে জি টু জি ভিত্তিতে (সরকারের সঙ্গে সরকারের) সমঝোতা স্মারক সই হয়। চীন সরকারই সিসিসিসিকে এই টানেল নির্মাণের জন্য মনোনীত করে। এ বিষয়ে গত ৩০ জুন সেতু কর্তৃপক্ষ ও সিসিসিসির মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি সই হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া অপর ১১টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, ‘তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য নির্বাচিত বেসরকারি কলেজগুলোর উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ১ম সংশোধিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জুলাই, ২০১২ থেকে জুন, ২০১৭। 

১ হাজার ৩৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা  ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন’ প্রকল্প। 

৫২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ণ অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ঢাকা’ প্রকল্প।

৪৩৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চলে প্রি-পেইড ই-মিটার স্থাপন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প।বাস্তবায়কাল জুলাই, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৮।

২৬৫ কোটি ৪৩ টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ‘কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রুণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন-৩য় পর্যায়’ প্রকল্প।

১২২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে প্রথম সংশোধিত ‘খুলনা প্রকৌশন ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সুবিধা উন্নয়ন’ প্রকল্প।

১২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রথম সংশোধিত ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন-১ম পর্যয়’ প্রকল্প।

৭৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ইন্দ্রপুল হতে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ’ প্রকল্প। জানুয়ারি ২০১৬ থেকে জুন ২০১৮ মেয়াদে  প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর।

৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদুৎ সরবরাহ’ প্রকল্প। 

খুলনা ওয়াসা ৩৩ কোটি ৪৮ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করবে ‘খুলনা শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পটি।বাস্তবায়নকাল জুলাই, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৮।

‘কনস্ট্রাকশন অব অ্যাডমিনিস্ট্র্যাটিভ বিল্ডিং সোলার ব্যারাক ফর থ্রি কোস্টগার্ড স্টেশন প্রজেক্টে ব্যয় হবে ৩৫ কোটি ৭৪ কোটি টাকা। 

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।