রাত ০৪:২৮ ; মঙ্গলবার ;  ১২ নভেম্বর, ২০১৯  

ব্যাংক ধনীদের অধিকোষ, এ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করুন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

ব্যাংক ধনীদের অধিকোষ। এই দর্শন থেকে বেরিয়ে এসে আসুন। আমরা ব্যাংকিং সেবা কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুরদের কাছে পৌঁছে দেই। যারা অর্থনীতির ভিত্তি বাঁচিয়ে রেখেছে।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে ব্যাংকিং মেলা উদ্ধোধনকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ সব কথা বলেন।

ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, নিরন্তর মানবিক পুঁজি গড়ে তোলায় চেষ্টায় ব্যাংককর্মী যেন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের পারিবারিক সদস্যের মতো সম্মান পায়, প্রেরণা পায়। শুধু মুনাফা সর্বোচ্চকরণই যেন ব্যাংকের উদ্দেশ্য না হয়। এ মেলা মানবিক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নবচেতনা দান করবে বলেই আমার বিশ্বাস।

নজিবুর রহমান বলেন, অর্থনীতিতে কিছু দুষ্ট চক্র কাজ করছে। এ জন্য ব্যাংকিং খাতে কিছু কিছু অনিয়মের খবর পাই। এই দুষ্ট চক্র হতে বের হয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে হার তা দারিদ্র্য বিনাশে যথেষ্ট নয়।এ জন্য প্রবৃদ্ধি  ৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাথে আমরা হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছি। ব্যাংকিং খাতে সঙ্গেও আমরা কাজ করতে চাই।

ড. এম আসলামুল আলম বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতকে অনেক এগিয়ে আসতে হবে। এজন্যে একক অঙ্কে ঋণ দেওয়া প্রয়োজন, যা ব্যাংকগুলো এখনও দিতে পারছে না। এ নিয়ে আমরা যে কাজ করছি তা আরও জোরদার করতে হবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসা তেমন সম্প্রসারণ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা না চাইতেই বাংলাদেশ ব্যাংক মেলা করেছে। অথচ সচেতনা বৃদ্ধি করতে কয়েকবার চিঠি দিয়ে বীমা মেলার আয়োজন করতে পারিনি।

তবে মেলা শুধু ঢাকা কেন্দ্রীক না করে সারাদেশে করার আহবান জানান তিনি।

মেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়াও দেশি-বিদেশি ৫৬টি ব্যাংক, ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৭টি আর্থিক সেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক শিক্ষা, টাকা জাদুঘর, বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস (টাকা তৈরির মেশিন), বিভিন্ন প্রকাশনা, স্মারক মুদ্রা ও নোট প্রদর্শনী এবং বিক্রয়, জনসাধারণের জন্য সেবা ও অভিযোগ কেন্দ্র খোলা রয়েছে। আয়োজন করা হয়েছে সেমিনার, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৫ দিনব্যাপী মেলাটি চলবে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।

/এসআই/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।