রাত ০৪:২৪ ; সোমবার ;  ১৮ নভেম্বর, ২০১৯  

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির ‘বৃহত্তর ঢাকার জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যার ঝুঁকি’ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সমস্যার কারণে আগামী ৩৫ বছরে ১৪ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হবে। আর এই ক্ষতি মোকাবিলায় দরকার হবে ঘিরে ৪০০ কোটি টাকা। বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে বাজেটে বরাদ্দ অপ্রতুল। তীব্র বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই স্মার্ট পলিসি গ্রহণ করা দরকার। সোমবার রাজধানীর আগাগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অব্যাহত বন্যা-জলাবদ্ধতা ঢাকাবাসীর জীবন-জীবিকাকে ব্যাহত করছে। সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে রাজধানীকে ঘিরে নদী বা খালপাড় এলাকা-বস্তিবাসীর ওপর। আগামী দশ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আরও ঘন ও তীব্র বৃষ্টিপাতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার হার বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়, তবে ২০৫০ সাল নাগাদ অতিবৃষ্টি-জলাবদ্ধতার কারণে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির আশঙ্কাসহ হিসাব করলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান ও পয়ঃনিষ্কাশন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও বৃষ্টিপাতের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেক ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা কমাতে বর্ষার নিষ্কাশন পাম্পের জন্য ২৭০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। এছাড়া, নিষ্কাশন পাইপ ক্লিয়ারিং স্থাপন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ধারণাপত্র ও অন্যান্য ব্যবস্থা উন্নয়নে বিনিয়োগের হার আরও বাড়াতে হবে। ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা করতে ক্রমবর্ধমান হারে আরও ১৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

বিশ্বব্যাংক পূর্ব ঢাকা, গোরান, যাত্রাবাড়ী, কল্যাণপুর, সেন্ট্রাল ঢাকা, পুরান ঢাকা, ডিএনডি এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সরজমিন গবেষণা চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন অংশে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যে অবকাঠামোসহ অন্য সুবিধাদি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে জলবায়ু দুর্যোগ স্থিতিস্থাপক সূচক (সিডিআরআই) অনুসারে শহর অঞ্চল চেয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে বন্যা জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সুস্মিতা দাশগুপ্ত বলেন, ঢাকার মতো একটি মেগাসিটিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিদ্যমান অবস্থার সঙ্গে অবকাঠামো ও অন্য সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের তফাৎ খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমানে যে পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে তা প্রয়োজনের মাত্র দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ অবস্থায় বিনিয়োগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে বড় সমস্যা খাল ও নদী দখল হয়ে যাওয়া। দেখা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি খাল শুরুতে ২০০ ফুট হলেও অনেক স্থানে তা ৫০ ফুট হয়ে গেছে। প্রভাবশালীরা এই দখলের সঙ্গে জড়িত থাকে বিধায় উদ্ধার করা কঠিন। এ জন্য জলাবদ্ধতাও রাতারাতি নিরসন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকট। এই সমন্বয়হীনতার কারণে একজন আরেকজনের ওপর দায় চাপিয়ে মুক্ত হয়ে গেলেও নাগরিক ভোগান্তি কমছে না। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের জন্য আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ দায়ী না থাকলেও ভুগতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

ড. আইনুন নিশাত বলেন, এই প্রতিবেদনে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত এই আলোকে উদ্যোগ গ্রহণ করা। এতে যে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে তা থেকে হয়তো রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রতিবেদন নিয়ে এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিন কাইমস বলেন, জনসংখ্যা ও নগরায়ণের দ্রুত বর্ধনশীল ঢাকার মতো একটি মেগাসিটিকে জলবায়ু প্রভাবজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। নগরবাসীর সেবার মান উন্নয়নে স্মার্ট পলিসি গ্রহণ ও উচ্চ বিনিয়োগের দিকে এগুতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের পরিবেশবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ সুস্মিতা দাশগুপ্ত। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, পরিবেশবিদ ড. আইনুন নিশাত, ওয়াটার রিসোর্স কনসালট্যান্ট ড. আসিফ জামান, ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এসআই/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।